ধানমন্ডিতে আন্ডারগ্রাউন্ড কমন এক্সেস নেটওয়ার্ক উদ্বোধন

ধানমন্ডিতে আন্ডারগ্রাউন্ড কমন এক্সেস নেটওয়ার্ক উদ্বোধন
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩:৩৯  
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০০:০৯  

রাশি রাশি ঝুলন্ত তারের পরিবর্তে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো  আন্ডারগ্রাউন্ড কমন এক্সেস নেটওয়ার্কে। ব্রডব্যান্ড ফাইবারের একক তারে সব অপারেটরের উচ্চগতির ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে স্থাপিত হয়েছে গ্রাহক পর্যায়ের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের এই পাতাল সংযোগ।

 ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) উদ্যোগে ২৮ এপ্রিল, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবরে এই নেটওয়ার্কের উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. প্রিয়াঙ্কা উপস্থিত ছিলেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম নগর জুড়েই এই সেবা চালুর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সিটি করতে হলে একাধিক তার ব্যবহার না করে একক সংযোগে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, টেলিভিশন এবং টেলিফোনির  ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য সেবাদাতারা শিগগিরই একসঙ্গে বসে ঢাকার অন্য এলাকাতেও এই সেবা চালু করবে বলে প্রত্যাশা করছি।

প্রশাসক বলেন, প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রায় ইন্টারনেট এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। তাই আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, শুধু ইন্টারনেট নয়, টেলিফোন ও কেবল টিভি নেটওয়ার্ককেও সমন্বিতভাবে আন্ডারগ্রাউন্ডে নিয়ে যেতে হবে। পৃথকভাবে এসব সেবা পরিচালিত হলে তা নগরবাসীর জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি করবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এলাকায় ফ্রি ইন্টারনেট জোন চালুর প্রস্তাব দেন। এতে শিক্ষার্থীরা সহজে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাবে বলে তিনি মনে করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, আমি আশা করবো এই সেবা বাস্তবায়নে যেসব বিপত্তি ছিলো তা সনাক্ত করে অন্যান্য এলাকাতেও এই নেটওয়ার্ক চালু করা হবে। একই সঙ্গে নতুন অপারেটরের জন্য বিনা বাধায় এই কমন অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে আইএসপিএবি তা নিশ্চিত করবে।

স্বাগত বক্তব্যে আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূঁইয়া জানান, ইন্টারনেট সেবায় অ্যাক্টিভ শেয়ার বাস্তবায়ন করা হলে সারাদেশে আগামী দুই বছরের পাঁচ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব হবেে।

আর সভাপতির বক্তব্যে আইএসপিএবির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক বলেছেন, সিটি কর্পোরেশন রোড কাটিং মোওকুফ করে বিনামূল্যে মাটি খুড়ে ক্যাবল স্থাপনের সুযোগ দিলে দ্রুততার সঙ্গে ঢাকার ক্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা স্মার্ট সেবায় রূপান্তর করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে বিটিআরসি যদি অ্যাকটিভ শেয়ারিং নীতিমালা চালু করে দেয় এবং সরকার ট্রিপল প্লে চালুর অনুমোদন দেয় তবে ঢাকা নগরির পাশাপাশি পুরো দেশকেই স্মার্ট নেটওয়ার্কের অধীনে নিয়ে আসবে আইএসপিএবি।

আয়োজকরা জানান, ধানমন্ডি এলাকায় সমন্বিত ব্রডব্যান্ড অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে গ্রাহকদের আরও উন্নত, দ্রুতগতির এবং নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সেবা প্রদানই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি কমানো, অবকাঠামোর সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং স্মার্ট নগর সেবা সম্প্রসারণেও এ নেটওয়ার্ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিবিটেক/এসএইচএ/এমইউএম