যমুনার বুকে কাশফুলের রাজ্য, বাড়ছে প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড়
সিরাজগঞ্জ: শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। নদীর বুকে রোদের চিকচিক খেলা। আর বাতাসের মৃদু দোলায় মাথা নেড়ে হাসছে কাশফুল। যমুনার তীরে যেন প্রকৃতি নিজ হাতে এঁকেছে সাদার এক বিশাল ছবি। সবুজের বুকজুড়ে শুভ্রতার এই আয়োজন দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। কেউ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকছেন, কেউ মুঠোফোনে বন্দি করছেন শরতের নরম সৌন্দর্য। সিরাজগঞ্জ শহরের চর-মালশাপাড়া […] The post যমুনার বুকে কাশফুলের রাজ্য, বাড়ছে প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড় first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

সিরাজগঞ্জ: শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। নদীর বুকে রোদের চিকচিক খেলা। আর বাতাসের মৃদু দোলায় মাথা নেড়ে হাসছে কাশফুল। যমুনার তীরে যেন প্রকৃতি নিজ হাতে এঁকেছে সাদার এক বিশাল ছবি। সবুজের বুকজুড়ে শুভ্রতার এই আয়োজন দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। কেউ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকছেন, কেউ মুঠোফোনে বন্দি করছেন শরতের নরম সৌন্দর্য।
সিরাজগঞ্জ শহরের চর-মালশাপাড়া (কাটাওয়াবদা) এলাকায় যমুনা নদীর দক্ষিণ পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত ক্রসবার-৩ বাঁধ এখন পরিণত হয়েছে শরতের মনোরম ঠিকানায়। স্থানীয়দের কাছে ‘চায়না বাঁধ-৩’ নামে পরিচিত প্রায় পৌনে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে ফুটেছে কাশফুল। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজের ওপর কেউ যেন সাদা চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। নদীর ঢেউ আর কাশবনের দোলা মিলে তৈরি করেছে অপূর্ব এক ছন্দ।
ভাদ্রের শেষভাগে কাশফুলের শুভ্র হাসি ফুটতে শুরু করে। আশ্বিনের বাতাসে সেই হাসি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। কার্তিক পর্যন্ত থাকে এই সাদার উৎসব। দুই থেকে তিন মাসের জন্য যমুনার পাড় হয়ে ওঠে প্রকৃতির এক নান্দনিক মঞ্চ। লম্বা সবুজ পাতার বুক চিরে বেরিয়ে আসা কাশফুল কোথাও থোকা থোকা, কোথাও ঘন গুচ্ছ। হাওয়ার স্পর্শে তারা দুলে ওঠে, যেন নদীর সঙ্গে নীরব কথোপকথনে মেতেছে।
বর্ষায় যে যমুনার বুকে নৌকার সারি আর ঢেউয়ের উচ্ছ্বাস দেখা যায়, শরতে সেই তীরেই নামে শুভ্রতার মেলা। বিকেলের সোনালি আলোয় কাশফুলের রং বদলে যায়। কখনও সাদা, কখনও রুপালি, আবার কখনও মেঘের ছায়ায় ধূসর। দূর আকাশে মেঘ জমলে বাতাসে আসে শীতলতার ছোঁয়া। মনে হয়, প্রকৃতি তার ব্যস্ত দিনের শেষে একটু থেমে দাঁড়িয়েছে।
সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের আনাগোনা শুরু হলেও বিকেল নামতেই বাড়ে ভিড়। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও নৌকায় করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ একা এসে খুঁজছেন প্রকৃতির নির্জন সান্নিধ্য। কাশবনের ভেতর ছবি তোলা, ভিডিও করা, সেলফি কিংবা নদীর বুকে নৌভ্রমণ সব মিলিয়ে আনন্দে কাটছে তাদের সময়।

সবুজের বুকে কাশফুলের শুভ্রতার দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। ছবি: সারাবাংলা
সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ে, তখন যমুনার জলে ছড়িয়ে পড়ে রূপালি আলো। কাশফুলের শুভ্রতা আর নদীর নীলাভ জল মিলে যেন তৈরি হয় রূপকথার দৃশ্য। সন্ধ্যার আঁধার ঘনিয়ে এলে দূরে জ্বলে ওঠে ঘরের আলো। কেউ তখনও ছবি তুলছেন, কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন প্রকৃতির সেই শেষ বিকেলের মায়া। শিশুরা ছুটছে কাশবনের পাশে, তরুণ-তরুণীরা মেতে উঠছেন হাসি-আনন্দে।
শহর থেকে ঘুরতে আসা আরিফা সুলতানা সারাবাংলার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘যত দূর চোখ যায়, শুধু সাদা সাদা কাশফুল। একসঙ্গে এত কাশফুল দেখতে খুব ভালো লাগে। এখানে এলে মনে শান্তি পাওয়া যায়। তাই পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছি। ছবিও তুলেছি, সময়টা দারুণ কেটেছে।’
দর্শনার্থী ছুরাইয়া খাতুন সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিকেল হলেই চায়না বাঁধ এলাকায় কাশফুল দেখতে অনেক মানুষ আসে। তরুণ-তরুণীরা ছবি তোলে, ভিডিও করে। পরিবার নিয়ে ঘোরার মতো সুন্দর একটি জায়গা এটি।’
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা সারাবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের নদ-নদীর তীর ও প্রাকৃতিক জলাশয়ের পাশে কাশফুল বেশি জন্মে। কাশফুলের সৌন্দর্য মানুষের মন ভরিয়ে দেয়। এর ব্যবহারিক গুরুত্বও রয়েছে। আগে কাশ দিয়ে ঘর তৈরি করা হতো। এখন পানের বরজের ছাউনি ও জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। যমুনার পাড়ের এই কাশফুল দেখতে জেলার বাইরে থেকেও মানুষ আসছে।’
যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল থেকে একটু দূরে, প্রকৃতির কাছে ফিরে আসার এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না কেউ। কাশফুলের দোলায়, নদীর হাওয়ায় আর শরতের নরম আলোয় মানুষ খুঁজে পাচ্ছেন প্রশান্তির ঠিকানা। যমুনার পাড়ে তাই শুধু কাশফুল ফোটেনি, ফুটেছে মানুষের মনে আনন্দের ফুলও।
The post যমুনার বুকে কাশফুলের রাজ্য, বাড়ছে প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড় first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.





