বিজ্ঞাপন ও বিক্রিতে বয়স যাচাইয়ের ঘাটতি নিয়ে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের উদ্বেগ
তরুণদের ৫.৫ শতাংশ ব্যবহার করছে ই-সিগারেটসহ নতুন তামাকপণ্য: গবেষণা
- ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের ৫.৫ শতাংশ বর্তমানে ই-সিগারেট, এইচটিপি ও নিকোটিন পাউচে আসক্ত; জীবনে অন্তত একবার ব্যবহার করেছেন ২৮.১ শতাংশ
- নতুন তামাকপণ্যগুলোর মধ্যে ই-সিগারেটের ব্যবহার সর্বোচ্চ (৪.৬%); পুরুষদের মাঝে ব্যবহারের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি (৩৪.৪%)
- মাত্র ২৪.১ শতাংশ ক্রেতার ক্ষেত্রে বয়স যাচাই করা হয়; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনে ফেসবুক শীর্ষে (৮৯%)
ঢাকা: দেশে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ প্রজন্মের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বর্তমানে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ও নিকোটিন পাউচের মতো আধুনিক ও অপ্রচলিত তামাকপণ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এছাড়া এই বয়সের প্রায় ২৮ দশমিক ১ শতাংশ তরুণ জীবনে অন্তত একবার হলেও এসব ক্ষতিকর পণ্য ব্যবহার করেছেন। ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশি তরুণদের ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচ ব্যবহার প্রবণতা’ শীর্ষক গবেষণা ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুলাই মেয়াদে ৫২৪ জন তরুণের ওপর পরিচালিত এই অনলাইনভিত্তিক গবেষণায় দেখা যায়, নতুন ধরনের তামাকপণ্যের মধ্যে ই-সিগারেটের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি (৪.৬ শতাংশ)। এরপরই রয়েছে নিকোটিন পাউচ (১.৩ শতাংশ) এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (০.৮ শতাংশ)। লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুরুষ তরুণদের ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ জীবনে অন্তত একবার এসব পণ্য ব্যবহার করেছেন, যেখানে নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া নিয়মিত সাধারণ সিগারেট ব্যবহারকারীদের ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ এসব নতুন পণ্যেও আসক্ত।
গবেষণায় উঠে এসেছে, বন্ধুদের চাপ (৩৭.৯ শতাংশ) এবং প্রচলিত তামাক ছাড়ার বিকল্প ভ্রান্ত ধারণা (৩৪.৫ শতাংশ) থেকে তরুণরা এসব পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, ভেপ শপ বা অনলাইন থেকে পণ্য কেনার সময় মাত্র ২৪ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষেত্রে ক্রেতার বয়স যাচাইয়ের প্রমাণপত্র দেখতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া উত্তরদাতাদের ২৬ শতাংশ দোকানে এবং ২০ দশমিক ৮ শতাংশ সামাজিক মাধ্যমে এসবের প্রচারণা দেখেছেন; যার মধ্যে ৮৯ শতাংশ বিজ্ঞাপনই প্রদর্শিত হয়েছে ফেসবুকে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, "তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিনের আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে প্রচলিত আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করে নতুন তামাকপণ্যের বিপণন ও বিক্রির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ জরুরি।"
বিশেষ অতিথি ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান,এবং সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, নতুন এসব পণ্য কম ক্ষতিকর—এমন মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে তরুণদের আসক্ত করা হচ্ছে। বক্তারা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ এবং কঠোরভাবে বিক্রয়কেন্দ্রে বয়স যাচাই বাস্তবায়নের জোর সুপারিশ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী এবং গবেষণা ফলাফল তুলে ধরেন ডা. অরুনা সরকার।
//ডিবিটেক/এজেপি/ এসএমই/ এমআইএস//





