ডিজিটাল সেবায় কমছে ভোগান্তি, রয়ে গেছে চ্যালেঞ্জ

অনলাইনে রাজউকের পারমিট, অনুমোদন প্রায় ৮ হাজার

  • সাত মাসে প্ল্যানিং ও কনস্ট্রাকশন পারমিটের ৭,৯৯৩টি আবেদন অনুমোদিত
  • দুই ধরনের পারমিটের জন্য জমা পড়ে মোট ১০,৯৮৫টি আবেদন
  • ভবন তদারকি ও বিভিন্ন সংস্থার এনওসি প্রক্রিয়া এখনও ম্যানুয়াল

অনলাইনে রাজউকের পারমিট, অনুমোদন প্রায় ৮ হাজার
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫৭  

ঢাকায় ভবন নির্মাণের অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজ করতে অনলাইন পারমিট ব্যবস্থা চালু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত মাসে প্ল্যানিং ও কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য জমা পড়া ১০ হাজার ৯৮৫টি আবেদনের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৩টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল আবেদন ও নিষ্পত্তির মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভবন নির্মাণকালীন তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার অনাপত্তিপত্র (এনওসি) সংগ্রহের প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি অনলাইন হয়নি।

রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, সাত মাসে প্ল্যানিং পারমিটের জন্য ৭ হাজার ৫৫টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে অনুমোদন দেওয়া হয় ৫ হাজার ৩৯৩টি। অন্যদিকে, কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য জমা পড়া ৩ হাজার ৯৩০টি আবেদনের বিপরীতে অনুমোদন দেওয়া হয় ২ হাজার ৬০০টি। এ সময়ে রাজউকের জোন-৪-এ সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়ে এবং সর্বোচ্চসংখ্যক অনুমোদন দেওয়া হয়।

রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন) প্রকৌশলী নূর-ই-খোদা এবং পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) মো. মনিরুল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নির্ধারিত সময়সীমায় আবেদন নিষ্পত্তির লক্ষ্য

রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী, প্ল্যানিং পারমিটের আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা ৩০ দিন। কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন ২৪ দিনের মধ্যে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন (বিসি) কমিটিতে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আবেদনে কোনো ত্রুটি থাকলে অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমেই আবেদনকারীকে তা জানানো হচ্ছে।

রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু বলেন, অতীতে পারমিট নিতে গিয়ে সেবাগ্রহীতাদের অনেক হয়রানির শিকার হতে হতো। তাঁদের এ ভোগান্তি থেকে রক্ষা করতেই অনলাইনে পারমিট দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্ল্যানিং ও কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা রাজউক পর্যবেক্ষণ করছে। ভবিষ্যতে সংস্থাটির সব সেবা ডিজিটাইজেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ধানমন্ডিতে পাইলট প্রকল্প দিয়ে শুরু

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, ২০১৬ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ধানমন্ডি এলাকায় পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ডিজিটাইজেশন কার্যক্রম শুরু হয়।

অনলাইন পারমিট ব্যবস্থা অনুমোদনপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করলেও ভবন নির্মাণের সব ধাপ এখনও একই ব্যবস্থার আওতায় আসেনি। নির্মাণকাজ চলাকালে তদারকি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল এভিয়েশনের মতো অন্যান্য সংস্থা থেকে অনাপত্তিপত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া এখনও ম্যানুয়াল থাকায় পুরো সেবাপ্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত গতি অর্জন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজউকসহ ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত সব সংস্থাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা ‘ওয়ান উইন্ডো সেল’-এর আওতায় আনা গেলে আবেদনকারীদের বারবার বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগের প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে অনুমোদনপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, সময়সীমা পর্যবেক্ষণ এবং সেবার দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে।

রাজউকের অনলাইন পারমিট ব্যবস্থা নগর উন্নয়নসেবাকে ডিজিটাল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে আবেদন থেকে অনুমোদন, নির্মাণকালীন তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার ছাড়পত্র—পুরো প্রক্রিয়াকে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনতে পারলেই সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি আরও কমানো সম্ভব হবে।

//ডিবিটেক/বিএসএস/ডিএমও/এসএমপি//