ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা ও কর্মসংস্থানযোগ্যতা বাড়াতে ২০২৬-২০৩০ জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তের উদ্যোগ

এআইভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় পাঁচ বছরের রূপান্তর পরিকল্পনা

  • সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই ও এলএমএস চালুর লক্ষ্য
  • গবেষণা, পেটেন্ট ও শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদার
  • ২০৩০ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতের পরিকল্পনা

এআইভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় পাঁচ বছরের রূপান্তর পরিকল্পনা
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৫৯  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম এবং গবেষণা-উদ্ভাবনকে কেন্দ্র করে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক রূপান্তরে পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদের এ পরিকল্পনার লক্ষ্য উচ্চশিক্ষাকে বৈশ্বিক মান, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।

বৃহস্পতিবার ইউজিসি চেয়ারম্যানের সভাকক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষ অর্জনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬–২০৩০)’-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় উচ্চশিক্ষা রূপান্তর কর্মশালার সুপারিশ, সরকারের অগ্রাধিকার এবং ইউজিসির কৌশলগত পরিকল্পনার সমন্বয়ে এ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষতা-কেন্দ্রিক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, কর্মপরিকল্পনায় পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো—স্নাতকদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধি ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পখাত সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি; ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার; শিক্ষক উন্নয়ন ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি; গবেষণার উৎকর্ষ, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিকীকরণ; এবং সুশাসন, মাননিশ্চিতকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই), লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস), ডিজিটাল প্রশাসন, এআইভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, ইন্টার্নশিপ এবং কর্মসংস্থান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গবেষণা প্রকাশনা ও পেটেন্টের সংখ্যা দ্বিগুণ করা, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণ, সমন্বিত জাতীয় উচ্চশিক্ষা তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পনাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হবে।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, উচ্চশিক্ষা খাতের রূপান্তরের নেতৃত্ব ইউজিসিকেই দিতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সফল উচ্চশিক্ষা সংস্কার পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে চীন, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি নয়, বরং তাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলা। বিদেশি শিক্ষার্থী আকৃষ্ট করতে এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষার গন্তব্যে পরিণত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি, একাডেমিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিকীকরণে সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের জন্য পরিকল্পিত উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

সভায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এবং ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলামসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/ এসএইচটি/এসএমই//