কমিশনিংয়ের চূড়ান্ত ধাপে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র; শুরুতে সরবরাহ হবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট

আগস্টের শেষেই জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের প্রথম বিদ্যুৎ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে কমিশনিং ও স্টার্টআপ পর্যায়ে রয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সব পরীক্ষা সফল হলে আগস্টের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে প্রথমবারের মতো প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে।

আগস্টের শেষেই জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের প্রথম বিদ্যুৎ
১৪ জুন, ২০২৬ ১৭:২০  

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি) চলতি বছরের আগস্টের শেষ নাগাদ প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ১৪ জুন, রবিবার জাতীয় সংসদে জামালপুর–৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে কমিশনিং ও স্টার্টআপ পর্যায়ে রয়েছে। এটি বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, জটিল এবং চূড়ান্ত ধাপ।

তিনি বলেন, দীর্ঘ পরিকল্পনা, নির্মাণ ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শেষে প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জ্বালানি খাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন হিসেবে কাজ করবে।

ফকির মাহবুব আনাম জানান, ইউনিট–১-এর স্টেজ-বি কার্যক্রমের আওতায় গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে। বর্তমানে রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি স্থাপন, বোরিক অ্যাসিড সংযোজন, প্রাইমারি সার্কিট পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই, সাব-ক্রিটিক্যালিটি টেস্টসহ বিভিন্ন কমিশনিং কার্যক্রম চলছে।

পরবর্তী ধাপে রিঅ্যাক্টরকে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বিত পরীক্ষা এবং নিম্নক্ষমতায় পরিচালনার মাধ্যমে স্টার্টআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে। প্রথমে ১০–১২ শতাংশ এবং পরে ৩৫–৪০ শতাংশ ক্ষমতায় পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করা হবে।

মন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর জ্বালানি লোডিং শুরুর প্রায় ১১৪ দিন পর জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

তিনি বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আশা করা হচ্ছে, আগস্টের শেষ নাগাদ রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।

রাশিয়ার সহযোগিতায় পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্পকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস বহুমুখীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

//ডিবিটেক/এসএইচ/ইকে//