ইউএসবি পোর্টের বেগুনি রঙের রহস্য কী?

ইউএসবি পোর্টের বেগুনি রঙের রহস্য কী?
১৪ জুন, ২০২৬ ০৯:০২  

নতুন কোনো স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের চার্জার কেনার পর অনেকেই হয়তো খেয়াল করেছেন, ইউএসবি ক্যাবল বা পোর্টের ভেতরের প্লাস্টিক অংশটি কালো বা নীল না হয়ে চমৎকার বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে কোম্পানির নিজস্ব নান্দনিক ডিজাইন মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে চার্জিংয়ের গতি এবং ডেটা স্থানান্তরের বড় রহস্য।

অফিশিয়াল মানদণ্ড বনাম বেগুনি রঙ
ইউএসবি-র আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ‘ইউএসবি ইমপ্লিমেন্টার্স ফোরাম’-এর অফিশিয়াল গাইডলাইন অনুযায়ী মূলত তিনটি রঙ রয়েছে: সাদা (ইউএসবি ১.০—ধীরগতির), কালো (ইউএসবি ২.০—রেগুলার গতি) এবং নীল (ইউএসবি ৩.০ বা ৩.১—সুপারস্পিড)।

এই তিন রঙের বাইরে বেগুনি পোর্টের কোনো বৈশ্বিক স্বীকৃতি নেই। বেসরকারিভাবে এই বেগুনি রঙটি মূলত চীনা টেক জায়ান্ট হুয়াওয়ে-এর নিজস্ব ‘সুপারচার্জ’ প্রযুক্তির প্রতীক। হুয়াওয়ের ৪০ ওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার ফাস্ট-চার্জিং পোর্টে এই কালার কোড ব্যবহার করা হতো। তবে বর্তমানে হুয়াওয়ে তাদের নতুন ৬৬ ও ১০০ ওয়াটের আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জারে বেগুনির বদলে কমলা রঙ ব্যবহার করছে।

গ্লোবাল মার্কেটে বিরল কেন?
আমেরিকা বা পশ্চিমা দেশগুলোর বাজারে বেগুনি রঙের ইউএসবি পোর্ট খুব একটা চোখে পড়ে না। এর মূল কারণ রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা। চীন-আমেরিকা বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে হুয়াওয়ের স্মার্টফোন ও অ্যাক্সেসরিজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ। ফলে সেখানে হুয়াওয়ের এই সিগনেচার বেগুনি রঙের পোর্ট বিরল।

রঙের বিভ্রান্তি ও সতর্কতা
বাজারে আরও কিছু রঙের পোর্ট দেখা যায়; যেমন—লাল বা হলুদ (কম্পিউটার বন্ধ থাকলেও চার্জিং সুবিধা), এবং সবুজ (কোয়ালকম কুইক চার্জ বা রেজার ব্র্যান্ডিং)।

তবে রঙের ওপর ভিত্তি করে চার্জার কেনা বিপজ্জনক হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, অনার-এর ১০০ ওয়াটের কমলা চার্জার দিয়ে ম্যাকবুক চার্জ করতে গেলে তা কাজ নাও করতে পারে। ভুল ক্যাবল ব্যবহারের ফলে ব্যাটারির ক্ষতি বা শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি থাকে।

সঠিক ক্যাবল চেনার উপায়
    নিরাপদ চার্জিং: ক্যাবলটি ইউএসবি-আইএফ সার্টিফাইড এবং লেটেস্ট পিডি ৩.১ সমর্থিত কিনা তা দেখতে হবে, যা ২৪০ ওয়াট পর্যন্ত নিরাপদ বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিত করে।

    ডেটা ট্রান্সফার স্পিড: ফাস্ট ডেটা ট্রান্সফারের জন্য ইউএসবি ৩.১ বা লেটেস্ট ইউএসবি ৪ এবং থান্ডারবোল্ট ৫ সমর্থিত ক্যাবল কিনতে হবে, যা সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৮০ জিবিপিএস গতি দিতে সক্ষম।

তাই আকর্ষক রঙ দেখে প্রলুব্ধ না হয়ে, প্যাকেটের গায়ের সার্টিফিকেশন ও স্পেসিফিকেশন দেখে পণ্য কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ডিবিটেক/বিএমটি    ।    সূত্র: এনগ্যাজেট