টেলিকম বাজেটে গ্রাহক স্বার্থ উপেক্ষিতঃ বিএমপিসিএ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে টেলিযোগাযোগ খাতে গ্রাহকদের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে জানান, কলরেটের ফ্লোর প্রাইস বাতিল, ৩৯% কর ও ভ্যাট হ্রাস এবং পদ্মা সেতুর সারচার্জ প্রত্যাহারের দাবি বাজেটে আমলে নেওয়া হয়নি। অপারেটরদের সুবিধা দেওয়া হলেও গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা বহাল রাখায় ডিজিটাল বৈষম্য বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে অবিলম্বে কর কাঠামো সংস্কারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সদ্য ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে দেশের টেলিযোগাযোগ সেবা খাতে সাধারণ গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও স্বার্থ চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।
১৩ জুন. শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এই উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত বাজেটে অপারেটর ও বড় বিনিয়োগকারীদের আর্থিক সুরক্ষায় কিছু ইতিবাচক দিক বা কর সংস্কারের ঘোষণা থাকলেও, দেশের কোটি কোটি সাধারণ গ্রাহকদের সরাসরি স্বস্তি দিতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “দেশের কোটি কোটি মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর তীব্র প্রত্যাশা ছিল যে, নতুন সরকারের প্রথম এই বাজেটে টেলিযোগাযোগ সেবাকে আরও বেশি সাশ্রয়ী, গণমুখী ও গ্রাহকবান্ধব করা হবে। কিন্তু বাস্তবে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে যে, গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবিগুলো বাজেটে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কলরেটের কৃত্রিম ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন সীমা) তুলে দেওয়া, পদ্মা সেতুর নামে মোবাইল সেবায় আরোপিত পুরনো সারচার্জ প্রত্যাহার করা এবং টেলিযোগাযোগ সেবার ওপর বিদ্যমান প্রায় ৩৯ শতাংশের উচ্চ কর ও ভ্যাট কমিয়ে আনা—এসব অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবারের বাজেটে পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে।”
গ্রাহকদের ওপর আর্থিক চাপের তীব্রতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে টেলিযোগাযোগ এবং ইন্টারনেট সেবা সাধারণ মানুষের বিলাসী কোনো বিষয় নয়, বরং এটি একটি মৌলিক নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবায় পরিণত হয়েছে। অথচ অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় করের বোঝা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কৃত্রিম মূল্য নিয়ন্ত্রণের (ফ্লোর প্রাইস) কারণে দেশের সাধারণ ও প্রান্তিক গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত আর্থিক লোকসান ও চাপের মুখে পড়ছেন। এর ফলে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে মহৎ লক্ষ্য, তা-ও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।”
টেলিকম খাতের ডিজিটাল বৈষম্য নিরসনে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়ে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “গ্রাহকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে টেলিযোগাযোগ খাতে কর ও ভ্যাট যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনতে হবে। একই সাথে অপ্রয়োজনীয় ও সাময়িক সারচার্জগুলো সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং একটি উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিত করতে ক্ষতিকর ফ্লোর প্রাইস নীতিমালা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। অন্যথায় দেশে ডিজিটাল বৈষম্য আরও তীব্র আকার ধারণ করবে এবং সাধারণ মানুষ তথ্যপ্রযুক্তির প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হবে।” পরিশেষে, দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের পকেটের সুরক্ষায় এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও গ্রাহকবান্ধব নীতি প্রণয়নে সরকার ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানায় সংগঠনটি।
//ডিবিটেক/এমএ/ইকে//





