বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সুলভে ইন্টারনেট দেবে, আনবে পেপ্যাল

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সুলভে ইন্টারনেট দেবে, আনবে পেপ্যাল
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৩৮  
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০৬  

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সব নাগরিকের জন্য সুলভ ইন্টারনেট সুবিধার পাশাপাশি জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। 

রাজধানীর বনানী ক্লাবে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি সেক্টরের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

ন্যাশনালিস্ট আইসিটি ফোরামের আয়োজনে এবং অ্যাফিক্স বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা শামীম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ড. মঈন খান উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  ড. হোসেন উদ্দিন শেখর, গ্লোবাল ইনফোটেক সিইও নাওঈদ হোসাইন, ত্রিমাত্রিক এআই সিইও সৈয়দ মোশাররফ আলী মিরশাদ প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলটির আইসিটি রোডম্যাপে সাতটি বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরার পাশাপাশি আলাদা আলাদা স্লোগান থাকবে বলে জানান বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক একেএম ওয়াহিদুজ্জামান। সেখানে সবার জন্য ইন্টারনেট, ক্যাশলাইট অর্থনীতি, ১০ লাখ কর্মসংস্থান ও দেশের প্রথম এআই ক্যাম্পাস নির্মাণসহ সাতটি বিষয়কে ফোকাস করা হয়। 

এই রোডপ্যাম বিষয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভ করলে বাংলাদেশের জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কাজ করবে বিএনপি। যারা মেধাবী তাদের জন্য যুতসই সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার পরিকল্পনায় এ বিষয়গুলো রেখেছেন।  

তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয় শুনেছেন ইতোমধ্যে, আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, সবার জন্য পর‌্যায়ক্রমে ইন্টারন্টারনেটাকে আমরা ফ্রিক রতে চাই প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে। বিএনপি ইননশাল্লাহ সরকার পরিচালনায় আসলে বাংলাদেশের সব স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, গ্রামিন ডিজিটাল সেন্টার, হাসপাতাল, রেল স্টেশন এবং এয়ারপোর্টসহ যে সব জনবহুল স্থান রয়েছে সেগুলেকে ধাপে ধাপে বিনা মূলে ইন্টারন্টে সুবিধার মধ্যে আনতে চাই।

ফ্রিল্যান্সারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে পেপ্যাল আনতে এরই মধ্যে বিএনপি কাজ শুরু করেছে জানিয়ে আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিএনপি ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করবে। 

অনুষ্ঠানে বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ৯৫ শতাংশ জনগণকে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় আনতে চায় বিএনপি। সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে ন্যাশনাল ই-ওয়ালেট চালু করবে বিএনপি। 

সব মিলিয়ে বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারে আইসিটিকে প্রাধান্য দিয়ে যে সাতটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো হলো- 

সবার জন্য ইন্টারনেট

বিএনপি সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে স্কুল-কলেজ, অফিস, গ্রামীণ ডিজিটাল সেন্টার, হাসপাতাল, রেলস্টেশন, এয়ারপোর্টসহ নির্দিষ্ট জনবহুল স্থানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট দেবে। এতে দেশের সবাই সহজে তথ্য নিতে ও আধুনিক সেবা ব্যবহার করতে পারবে। ‘ধানের শীষের অঙ্গীকার- ইন্টারনেট হবে সবার’।

১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান

আইসিটি খাতকে দ্রুত সক্রিয় করতে সাইবার নিরাপত্তা, বিপিও, এআই-ডেটা, সেমিকন্ডাক্টর, ইন্ডাস্ট্রি খাতে সরাসরি দুই লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আরও আট লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করতে চায় বিএনপি। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজন ভোটারদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। ‘ধানের শীষের অঙ্গীকার- থাকবে না কোন দক্ষ বেকার’।

আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর নাগরিক সেবা

আগামী নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার সুযোগ দিলে বিএনপি সরকার নিয়ে আসবে কৃষকদের সহায়তায় ‘কৃষক কার্ড’, পরিবারে নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এআই-ভিত্তিক স্বাস্থ্য কার্ড, শিক্ষার মান বাড়াতে এআই-ভিত্তিক কানেক্টেড স্কুল ও লার্নিং সিস্টেম, তাৎক্ষণিক জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ও স্বাস্থ্য সেবা, অটোমেশনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে পুলিশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এআই পরিচালিত ইমিগ্রেশন সিস্টেম, স্বয়ংক্রিয় ভূমি ও কর ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি ও বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তি নির্ভর ওয়ান স্টপ সার্ভিস। ‘ধানের শীষের অঙ্গীকার, দেশ হবে প্রযুক্তি নির্ভর সমন্বিত সেবার’।

আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা

নাগরিকদের তথ্য এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো রক্ষায় জনগণ ও দেশি-বিদেশি স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে নিয়ে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা এবং আইন করতে চায় বিএনপি। ‘ধানের শীষের অঙ্গীকার- নিরাপদ হবে সাইবার স্পেস, রক্ষা হবে নাগরিক অধিকার’।

পে-প্যালসহ প্রযুক্তিভিত্তিক ‘ক্যাশ-লাইট’ অর্থনীতি

বিএনপি সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তিবিদদের সুবিধার জন্য পে-পালসহ (PayPal) একটি জাতীয় ই-ওয়ালেট (E-Wallet) চালু করবে, যাতে দৈনন্দিন কেনাকাটা, বিল, ফি, কর— সবই সহজে ডিজিটালভাবে পরিশোধ করা যায়। ‘ধানের শীষের অঙ্গীকার- লেনদেন হবে ডিজিটাল’।

দেশের প্রথম এআই-চালিত ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস

শুধুমাত্র ২০২৩ সালেই বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটগুলোতে ৬ কোটি ৩০ লাখবার সাইবার অ্যাটাক হয়েছে। এর চেয়েও ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে- একই বছর বাংলাদেশের ৫ কোটিরও বেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে বিক্রি হয়ে যায়। দেশ ও নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের ডেটা দ্রুত ও নিরাপদে সংরক্ষণ ও বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশে একাধিক আধুনিক টিআর-৪ ও টিআর-৩ ডেটা সেন্টার দরকার। তাই বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে ‘ক্লাউড-ফার্স্ট’ কৌশলে দেশের প্রথম এআই-চালিত ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস স্থাপন করা হবে। ‘ধানের শীষের অঙ্গীকার- দেশের প্রথম এআই-চালিত ডেটা সেন্টার’।

বাংলাদেশের প্রযুক্তি শিল্পখাতকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়ে যাওয়া

দেশের সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও বিপিও শিল্পকে শক্তিশালী করতে আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করে ‘Made/Assembled/Serviced in Bangladesh’ উদ্যোগ চালু করতে চায়, যাতে এসব পণ্য ও সেবা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রথম সারিতে প্রতিযোগিতা করতে পারে। ‘ধানের শীষের অঙ্গীকার- দেশের প্রযুক্তি গড়বে আন্তর্জাতিক বাজার’।

ডিবিটেক/এইচএম/ ইকে