মেধাসম্পদ সুরক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বান

মেধাসম্পদ সুরক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বান
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:০৯  

গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎকর্ষ অর্জন এবং মেধাসম্পদ সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন । 

গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিতকরণ এবং মেধাসম্পদ সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে তিনি দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করারও পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী । 

বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং উদ্ভাবকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২৬ এপ্রিল, রবিবার ইউজিসি এ কর্মশালা আয়োজন করে। 

এছাড়া, গবেষকদের মেধাস্বত্ব ও পেটেন্টের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সব ধরণের সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে শিক্ষামন্ত্রী জানান। মেধা পাচার দেশের গবেষণা ও উন্নয়নের অন্যতম অন্তবায় হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মেধা পাচাররোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এর পেছনের কারণগুলো খোঁজে বের করা প্রয়োজন। 

ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ- এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম।  

অনুষ্ঠানে বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস উপলক্ষ্যে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মহিদুস সামাদ খান। এছাড়া প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ব্রাক বিশ্বিবিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার। 

শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরত্ব দিয়েছেন। মেধাস্বত্ব তৈরি ও সুরক্ষায় আমাদের কাজ করতে হবে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন মেধাসম্পদ নিয়ে আলোচনা হয়, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং পেটেন্টের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায় সেক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। এছাড়া, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ অর্জনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদেরকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণে ইউজিসিকে আহ্বান জানান। 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অনুপাতে বিশ্ব মেধাসম্পদে আমাদের অংশীদারিত্ব একবারেই নগণ্য।  গবেষণা ও উদ্ভাবনে কাজে যে পরিমান অগ্রগতি হওয়ার কথা সেটি প্রত্যাশিতভাবে হয়নি। মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও মেধাসম্পদ বাণিজ্যিকীকরণ করা গেলে বাংলাদেশে নতুন দিগন্তে প্রবেশ করবে। 

ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যায়গুলোতে গবেষণা উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে একটি ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে ইউজিসি। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা নির্ধারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ গ্রহণ করা হবে। 

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মেধাস্বত্ত্ব নিশ্চিত করতে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি সেল প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও, উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিস প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উদ্ভাবনের সাথে সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিল্প প্রতিষ্ঠান-সকল পক্ষই যেন উপকৃত হতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

ইউজসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালগুলোতে অসংখ্য গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব গবেষণার ফলাফল প্রকাশনার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। খুব কম গবেষণাই উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণে ভূমিকা রেখেছে। ফলে ব্যক্তির প্রোফাইল ভারী হলেও, পদোন্নতিতে সহায়ক হলেও দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। 

তিনি বলেন, দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান অর্জন এখনো সম্ভব হয়নি। শিক্ষার মানের দিক থেকে পিছিয়ে পড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এইচএসসি পরীক্ষার সাথে সমন্বয় করে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে একাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরি এবং শিক্ষা কাযক্রম নির্ধারিত সময়ে শেষ করার আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ে শিক্ষার্থীরা যেন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করতে পারে সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। 

অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমান, ও প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলামসহ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, আইকিউএসি সেলের পরিচালকবৃন্দ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব বলেন, প্রতিবছর দেশে প্রায় ৫ হাজার গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এসব গবেষণার মধ্যে মাত্র ৩০টির জন্য পেটেন্ট আবেদন করা হচ্ছে। মেধাস্বত্ব বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে ইউজিসি বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাস্বত্ব বিষয়ে কর্মশালা আয়োজন, আইপি সেল ও টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিস খোলা এবং আইপি পলিসি অন্যতম। 

ডিবিটেক/এমএজেআর/ইকে