২০২৬ সালে টোকিও কেন প্রযুক্তি বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু?

২০২৬ সালে টোকিও কেন প্রযুক্তি বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু?
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৫৯  

প্রতি বছরই বিশ্বের কোথাও না কোথাও বড় বড় প্রযুক্তি সম্মেলন আয়োজিত হয়, তবে ২০২৬ সালে সব আলোচনা আর উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে জাপানের রাজধানী টোকিও। মূলত ‘সুশি টেক টোকিও ২০২৬’ সম্মেলনকে কেন্দ্র করেই বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিবিদ ও বিনিয়োগকারীদের এই বাড়তি আগ্রহ।

এবারের সম্মেলনের বিশেষত্ব হলো এটি কেবল গৎবাঁধা আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং চারটি সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তি খাতের বাস্তব প্রয়োগ এবং সরাসরি প্রদর্শনীতে সাজানো হয়েছে পুরো আয়োজন।

১. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: হাইপ ছাড়িয়ে অবকাঠামোতে
এবারের সম্মেলনে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেবল আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে নয়, বরং এর বাস্তব প্রয়োগ ও পরিকাঠামোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এনভিডিয়া ও এডব্লিউএস-এর মতো প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখানে এআই-এর ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এর সঠিক ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করছেন। এছাড়া প্রথমবারের মতো ‘এআই ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল জাপান’-এর মাধ্যমে সংস্কৃতিতে এআই-এর প্রভাব ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।

২. রোবটিক্স: যখন এআই হবে সশরীরে উপস্থিত
টোকিওতে প্রদর্শিত রোবটগুলো কেবল কাঁচের ঘেরাওয়ে বন্দি নয়, বরং সেগুলো মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করতে সক্ষম। নিসান এবং ইসুজু-র মতো গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো দেখাচ্ছে কীভাবে সফটওয়্যার-চালিত যানবাহন যাতায়াত ব্যবস্থাকে বদলে দিচ্ছে। যাকে বলা হচ্ছে ‘ফিজিক্যাল এআই’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাস্তব রূপ।

৩. জলবায়ু ও সাইবার নিরাপত্তা
ভবিষ্যতের প্রতিকূলতা মোকাবিলায় আধুনিক শহরগুলোর প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে চলছে বিশেষ প্রদর্শনী। সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে ট্রেন্ড মাইক্রো ও এনইসি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ভিআর ডিজাস্টার সিমুলেটর এবং টোকিওর আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্লাড-কন্ট্রোল বা ভূগর্ভস্থ বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সরাসরি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

৪. বিনোদন: এনিমেশনের হলিউড
জাপানের এনিমেশন শিল্পকে বিশ্বজুড়ে পৌঁছে দিতে কাজ করছেন নামী সব স্টুডিওর প্রধান নির্বাহীরা। এছাড়া এআই ব্যবহার করে মাঙ্গা বা কমিকস অনুবাদ এবং টেক্সট থেকে গান তৈরির মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোও এখানে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

অংশগ্রহণে আধুনিকতা
যারা সশরীরে টোকিওতে উপস্থিত হতে পারছেন না, তাদের জন্য রয়েছে ‘রিমোট পার্টিসিপেশন’ সুবিধা। এক্ষেত্রে প্রদর্শনীস্থলে একজন কর্মী থাকবেন, যার হাতে থাকা ডিভাইসে দূরদূরান্তের অংশগ্রহণকারীর মুখ দেখা যাবে। ফলে ঘরে বসেই যেকোনো স্টল বা অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হবে।

এই সম্মেলনের পাশাপাশি টোকিও মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্ট বিশ্বের ৫৫টি শহরের নেতাদের নিয়ে একটি শীর্ষ সম্মেলনেরও আয়োজন করেছে। যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগ মোকাবিলা করে একটি ‘নতুন নগর ভবিষ্যৎ’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

ডিবিটেক/বিএমটি  ।  সূত্র: টেকক্রাঞ্চ