দুই কলেজ শিক্ষার্থীর স্টার্টআপে ৫.১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ
কোনো আলাদা অ্যাপ ছাড়াই শুধুমাত্র আইমেসেজ ব্যবহার করে গড়ে উঠেছে এক নতুন প্রজন্মের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম ‘সিরিজ’। ইয়েল ইউনিভার্সিটির চতুর্থ বর্ষের দুই শিক্ষার্থী নাথানেও জনসন এবং শন হারগ্রোর এই উদ্ভাবনী উদ্যোগে মুগ্ধ হয়ে বিনিয়োগকারীরা ৫.১ মিলিয়ন ডলারের প্রি-সিড ফান্ডিং প্রদান করেছেন।
যেভাবে কাজ করে এই প্ল্যাটফর্ম:
- সহজ যোগাযোগ: ব্যবহারকারীরা আইমেসেজের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট নম্বরে (সিরিজ এআই) টেক্সট করে জানান তারা কাদের সাথে এবং কেন পরিচিত হতে চান।
- এআই ক্যারোসেল: এআই তখন ১০টি ছবির একটি ‘ক্যারোসেল’ বা তালিকা পাঠায়, যেখানে একই ধরনের আগ্রহের অন্যান্য ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল থাকে।
- গোপনীয়তা রক্ষা: প্রোফাইল দেখে পছন্দ হলে ব্যক্তিগত ফোন নম্বর শেয়ার না করেই ব্যবহারকারীরা সরাসরি চ্যাটিং শুরু করতে পারেন।
- কথোপকথন-ভিত্তিক ইন্টারফেস: এটি প্রচলিত সার্চ ইঞ্জিনের বদলে এআই-এর সাথে কথোপকথনের মাধ্যমে দ্রুত কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির সন্ধান দেয়।
বিখ্যাত বিনিয়োগকারীদের সমর্থন:
এই স্টার্টআপে বিনিয়োগ করেছেন প্রযুক্তি বিশ্বের বেশ কয়েকজন নামী ব্যক্তিত্ব। তাদের মধ্যে রয়েছেন—
- স্টিভ হাফম্যান: রেডডিটের (Reddit) সিইও।
- ইকরাম ম্যাগডন-ইসমাঈল: ভেনমোর (Venmo) সহ-প্রতিষ্ঠাতা।
- এডওয়ার্ড তিয়ান: জিপিটিজিরো-র (GPTZero) প্রতিষ্ঠাতা।
সাফল্য ও বর্তমান অবস্থা:
বর্তমানে ৭৫০টিরও বেশি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ‘সিরিজ’ ব্যবহৃত হচ্ছে। সিইও নাথানেও জনসন জানান, তাদের অ্যাপের রিটেনশন রেট ৮২ শতাংশ, যা ফেসবুকের শুরুর দিককার হারের চেয়েও বেশি।
মজার বিষয় হলো, এই দুই তরুণ উদ্যোক্তা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড্রপ-আউট না হয়েই নিউ ইয়র্কের চেলসিতে তাদের অফিস পরিচালনা করছেন। তারা মনে করেন, পড়াশোনার বাইরে যে অতিরিক্ত সময় থাকে, তা সঠিক কাজে লাগিয়ে বড় কিছু করা সম্ভব।
মূলত জেন-জি এবং তরুণ পেশাদারদের লক্ষ্য করে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি বন্ধুত্ব এবং ডেটিংয়ের জন্যও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: টেকক্রাঞ্চ







