হঠাৎ উধাও ‘তাজু ভাই ২.০’

হঠাৎ উধাও ‘তাজু ভাই ২.০’
৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০০:০০  

আলোচিত ফেসবুক পেইজ ‘তাজু ভাই ২.০’ হঠাৎ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাইজুল ইসলাম তাজু–এর ফেসবুক পেইজটি ৫ এপ্রিল, রবিববার দুপুরের পর থেকে উধাও হওয়ায় তার অনুসারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ‘তাজু ভাই টিম’–এর সমন্বয়ক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজ ‘অবেলা মিউজিক’-এ লিখেছেন, পেজটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং শিগগিরই তা ফিরে পাওয়ার আশা করছেন তারা।

তাজুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, পেজটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। তবে কী কারণে এটি সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

তাইজুল ইসলামের সহ‌যো‌গী শাহআলম হো‌সেন এ তথ্য নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন। ত‌বে এ‌টি মেটার (‌ফেসবুক) প্রযু‌ক্তিগত সাম‌য়িক সমস্যার কার‌ণে ঘ‌টে‌ছে ব‌লে দা‌বি ক‌রে‌ছেন তি‌নি। সি‌স্টেম হালনাগাদের কার‌ণে এমন‌টি হওয়া স্বাভা‌বিক। স্বল্প সম‌য়ের ম‌ধ্যে পেজ‌টি আবার পাওয়া যা‌বে ব‌লে প্রত্যাশা তার। এ বিষ‌য়ে তাইজুল ইসলামের মন্তব্য জান‌তে তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দি‌লেও তা‌কে পাওয়া যায়‌নি। 

হঠাৎ পেজটি উধাও হয়ে যাওয়ায় তার জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পেজটি আবার চালু হবে কি না, সে বিষয়েও এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে ১০ হাজা‌রেরও কম ফ‌লোয়ার নি‌য়ে  গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস–এ জিলাপি বিক্রির একটি ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তাজু। নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর বাজারে ধারণ করা ওই ভিডিওতে দোকানিকে দামের বিষয়ে প্রশ্ন করতে দেখা যায় তাকে। তার সরল ও ভাঙা সংলাপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অল্প সময়ের মধ্যেই তার পেজের অনুসারী কয়েক হাজার থেকে বেড়ে প্রায় ১০ লাখে পৌঁছে যায়। 

তাইজুল ইসলাম তাজু কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল নারায়ানপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান। ছয় ভাইবোনের মধ্যে বড় তিনি এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আর্থিক সংকটের কারণে কখনো স্কুলে পড়ার সুযোগ পাননি। সর্বশেষ ঢাকায় রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। নিজের ভিডিও করা প্রসঙ্গে তাজু বলেন, অসুস্থ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী মা–বাবার দুঃখকষ্ট ভুলতেই তিনি ভিডিও করেন। তবে ট্রলের শিকার এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর স্পষ্ট বলেছেন, “আমি কোনো সাংবাদিক না”। 

ডিবিটেক/এফবিও/এমইউআইএম