ডিভিশনাল আইএসপি ও আইআইজি রক্ষা কমিটি গঠন

ডিভিশনাল আইএসপি ও আইআইজি রক্ষা কমিটি গঠন
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১৯:২৫  

জাতীয় স্বার্থে এবার জোট বাধছে দেশের চার শতাধিক বিভাগীয় আইএসপি এবং ৩৪টি আইআইজি প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে গঠিত হয়েছে ডিভিশনাল আইএসপি ও আইআইজি রক্ষা কমিটি। সূত্রমতে, গত ১৮ মার্চ, বুধবার অনলাইনে ২২ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঈদের পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হওয়ার পর আত্মপ্রকাশ করবে দেশের টেলকম খাতের নতুন এই জোট। 

 ডিভিশনাল আইএসপি ও আইআইজি রক্ষা কমিটির অন্যতম একজন আহ্বায়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বলতে গেলে রকেট গতিতে নতুন টেলিকম পলিসি তৈরি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন  সরকার। তবে সেই রকেটের ফুয়েল ট্যাঙ্ককেই যেন বড় ছিদ্র তৈরি করে বসল পলিসি-তে টেকসই ব্যবস্থাপনার তোয়াক্কা না করেই। কোন নিরীক্ষা ছাড়াই ডিভিশনাল আইএসপি এবং আইআইজি অপারেটরদেরকে একতরফাভাবে বিলুপ্ত করার সুপারিশ গ্রহণ করল।’ 

‘অথচ ভুলে গেল দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা দিয়ে থাকে এই ডিভিশনাল আইসপিরাই। এরাই গ্রাম-গঞ্জে ইন্টারনেট প্রসারে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। একইভাবে দেশের যে ৩৪টি আইআইজি অপারেটারের কল্যাণে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মূল্য আজ সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে; যার সুফল দেশের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে তাদেরকেও রাখা হলো বাতিল তালিকায়। অথচ ন্যাশনাল সিকিউরিটি/সাইবার সিকিউরিটি রক্ষায় আইআইজিগুলো সরকারকে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে’- যোগ করেন তিনি।  

নতুন এই জোটের মতে, মধ্যস্বত্ব ভাঙ্গার যে ভঙ্গুর যুক্তিতে এটা করা হয়েছে সেখানে বৈশ্বিক বেস্ট প্রাক্টিসকেও যেন অসার বিবেচনা করা হলো পলিসিতে।  সারা দুনিয়ায় আইএসপিরা যেখানে আইএসপি লাইসেন্স দিয়েই ব্যবসা পরিচালনা করে সেখানে আমাদের এখানে এফটিএসপি নাম সুপারিশ করা হলো যা আমাদের বিজনেস পলিসি এবং টোপোলজির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। অথচ বিষয়টা এমন হওয়া উচিত ছিল যাতে করে ক্যাবল, ওয়ারলেস, স্যাটেলাইট - তিনটি মাধ্যমেই সে তার গ্রাহক চাহিদা মেটাতে পারে।

তাই ‘নীতিমালার বৈপরিত্যমূলক ও উপেক্ষিত সেসব বিষয় জাতির সামনে তুলে ধরতে দেশের ডিভিশনাল আইএসপি এবং আইআইজি অপারেটরদের নিয়ে "ডিভিশনাল আইএসপি ও আইআইজি রক্ষা কমিটি" গঠন করা হলো বলে জানিয়েছেন কমিটির অপর একজন সদস্য। 

তাদের ভাষ্য ‘সবাইকে নিয়েই 'সবার আগে দেশ' নীতি বাস্তবায়নের নিরিখে ঈদের ছুটির পরপরই বিটিআরসির  মাধ্যমে সরকারকে এ নিয়ে একটি স্মারকলিপি দেবে এই কমিটি’। 

স্মারকলিপিতে কী থাকবে জানতে চাইলে জানানো হয়- সেখানে কীভাবে সবাইকে নিয়ে দেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ব্যাকবোন শক্ত করে দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায়, দেশী টেলিকম খাতকে টেকসই উন্নয়নের সোপান হিসেবে ব্যবহার করা যায় তার রূপরেখা পেশ করা হবে। এতে অপারেটরের প্রয়োজনীয়তা, উপকারিতা এবং রাষ্ট্র গঠনে এদের অবদান সুচারুভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে; যাতে করে এই সেক্টরে বিশৃঙ্খলা দূর হয়। একইসঙ্গে আচিরেই সকল অপারেটরদের জন্য বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং শ্রমঘন এই সেক্টরে কর্মরত বিপুল শিক্ষিত কর্মজীবীদের চাকরি সুরক্ষা ও সরকারের প্রতিশ্রুত নতুন কর্মসংস্থান পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ দেয়া যায়; তার একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করবে  "ডিভিশনাল আইএসপি ও আইআইজি রক্ষা কমিটি"।