রাবিতে প্রথম ‘ইনকিউবেশন হাব’ চালু

রাবিতে প্রথম ‘ইনকিউবেশন হাব’ চালু
৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৫৭  

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো চালু হলো ‘ইনকিউবেশন হাব’। বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের মলিকুলার বায়োলজি অ্যান্ড প্রোটিন সায়েন্স ল্যাবরেটরির (MBPSL) উদ্যোগে এই ইনকিউবেশন হাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

ইনকিউবেশন হাব নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের জন্য একটি সহায়ক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্তকরেছেন সংশ্লিষ্টরা।

৭ জানুয়ারি, শনিবার বিকেলে ইনকিউবেশন হাবটি উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব ও মলিকুলার বায়োলজি অ্যান্ড প্রোটিন সায়েন্স ল্যাবরেটরি ইনকিউবেশন হাবের মুখ্য গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন মজুমদার, আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন ও অধ্যাপক ড. মো. মনিমুল হক, ইনকিউবেশন হাবের সহযোগী গবেষক ড. খন্দকার মো. খালিদ-বিন-ফেরদৌস, ইনভেন্ট টেকনোলজি লিমিটেডের ব্যলক মো. রেজাউল হালিম ও মহাব্যবস্থাপক শেখ মো. সেলিম আল-দিনসহ অন্যান্যরা।

উদ্বোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি করে মার্কেটের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে এই ইনকিউবেশন হাব একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। রাবিতে প্রফেসর আবু রেজার নেতৃত্বে এই ল্যাবের যাত্রা শুরু হলো। আমরা আশা করছি, এই ল্যাব দেখে এক বছরের মধ্যে আরও অনেক ল্যাব তাদের কাজ শুরু করবে। ল্যাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

ইনকিউবেশন হাবের মুখ্য গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গবেষণাগুলোকে শিল্পমুখী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব পণ্য দেশে উৎপাদিত হয় না, সেগুলো দেশে উৎপাদন ও বাজারজাত করাই তাদের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পাবে, তেমনি একটি কোম্পানি কীভাবে গড়ে তুলতে হয় সে সম্পর্কেও বাস্তব ধারণা লাভ করবে।

তিনি আরও বলেন, বায়োটেকনোলজির যেসব পণ্য বাংলাদেশের শত শত ল্যাবে ব্যবহার হচ্ছে, তার প্রায় সবই বিদেশ থেকে আমদানি করা। অথচ এসব পণ্য দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব। ইতোমধ্যে ৮টি পণ্য তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব গবেষণাকে ইনকিউবেশন হাবে উন্নয়ন করা হবে। পরবর্তীতে কোম্পানিগুলো ফান্ডিং করলে সেগুলো বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা হবে।

তিনি জানান, গবেষণাগারগুলোকে টেকসই করার ক্ষেত্রে ইনকিউবেশন হাব একটি কার্যকর মডেল হিসেবে কাজ করবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এখনও মূলত সার্টিফিকেট নির্ভর। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের মেধা কাজে লাগিয়ে দেশেই বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন সম্ভব।

ইনকিউবেশন হাবে উৎপাদিত পণ্যগুলো প্রথম পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও ফার্মাসিউটিক্যাল বিভাগে বিনামূল্যে সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই উদ্যোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

ডিবিটেক/ডিএমসি/ইকে