আইএসপি বা এফটিএসপিদের রেভিনিউ শেয়ার থাকছে না : বিটিআরসি কমিশনার

আইএসপি বা এফটিএসপিদের রেভিনিউ শেয়ার থাকছে না : বিটিআরসি কমিশনার
১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৪১  

আইএপিদের রেভিনিউ শেয়ারিং করতে হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল আহমেদ। একই সঙ্গে মোবাইল অপারেটিরদের জন্য ট্যারিফ সিলিং বেধে দিলেও ফ্লোর বেধে দেয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। 

১৪ জানুয়ারি, বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘আইসিটি ও টেলিকম খাতের সংস্কারনামা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এক প্রশ্নের জবাবে এমনটাই জানান বিটিআরসি কমিশনার। 

তিনি বলেছেন, আমরা এখন আর আইএসপি বা এফটিএসপি’র সঙ্গে রেভিনিউ শেয়ারের বিষয়টি আর বিবেচনায় নিচ্ছি না। এখন পর্যন্ত প্রকাশন করা না হলেও শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। আইএপিদের রেভিনিউ শেয়ারিং করতে হবে না। 

এ বিষয়ক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেছেন, আইএসপিরা  রেভিনিউ শেয়ার করছে না। কিভাবে করবে? গাইড লাইনই তো এখনও পাশই হয় নাই। ন্যাচারালই আমরা এই রেভিনিউ শেয়ারিং যেন না থাকে ওই বিষয়টি খেয়াল রাখতে চাই।   

‘এই মুহুর্তে আমাদের এক কোটি ৭৩ লাখের মতো ব্রডব্যান্ড সাবসক্রাইবার আছে’ জানিয়ে ‘এই সাবসক্রাইবার থেকে যদি আমি ১৫ শতাংশ ভ্যাট নিয়ে সরকারকে দিতে পরি, যদিও আমার দায়িত্ব নয় তা; তবে যদি এনসিও করতে পারি তবে ভ্যাটের মাধ্যমে যে টাকাটা পাওয়া যাবে সেটা একটা বড় অংকের টাকা দাঁড়াবে। তাহলে আর রেভিনিউ শেয়ার লাগবে না’- যোগ করেন তিনি। 

একসময় বিটিআরসি-কে সোনার ডিম পাড়া হাঁস বিবেচনা করা হলেও একটু একটু করে সংস্থাটি এই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসছে বলেও জানালেন বিটিআরসি’র এই কমিশনার। তিনি বলেন, নতুন পলিসির মধ্যে সেই ইন্ডিকেশনটা রয়েছে। তাছাড়া ডিজিটাল ইকনোমিকি ফ্লারিশ করতে হলে এই সেক্টর অ্যানাবল সেক্টর হিসেবে এই খাতে আরও ১০টা কর্মস্থান সৃষ্ট হবে। তখন সরকার আরও আয় করতে পারবে। আমি আশা করবো জনগণের সরকারের সময় আরও এমন জনবান্ধব নীতি হবে। 

মোবাইল ডেটার দাম বাড়ার বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল আহমেদ। একইসঙ্গে ২০১০ সালে বিটিআরসি’র স্বাধীনতা খর্ব করার পর থেকেই এই খাতে সঙ্কট শুরু এবং টেলিকম পলিসিতে প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, যে টেলিকম পলিসিটি করা হয়েছে সেটা মূলত- নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড লাইসেন্সিং রেজিম ২০২৫। আগে যে আইএলডিটিএস পলিসি ছিলো এটা তার প্রতিস্থাপন। বাংলাদেশের টেলিকমিউনিকেশন কোন অবকাঠামো বা টপোলজিতে চলবে সেটি নির্দেশনা দিতো ওই পলিসিটি। সেটি অনেক পুরোনো থাকায় এটি নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারছিলো না। ভ্যালু অ্যাড করতে পারছিলো না। পাশাপাশি এটি যতটা না জনবান্ধব ছিলো তার চেয়ে বেশি সুবিধা হয়েছিলো কিছু ব্যবসায়ীদের। ফলে সেবার মান কমছিলো। তাই এটা অনেক আগেই পরিবর্তন করার দরকার ছিলো। এটি ছিলো ছয় সাত স্তরে। সেটি কমিয়ে আমরা নতুন নীতিমালায় ৩-৪টিতে নামিয়ে এনেছি। 

নতুন যে কোনো কিছু গ্রহণে ভয়-ভীতি থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে পুরোনোদের নতুন লাইসেন্স নীতিমালায় অন্তর্ভূক্তির কনাসালটেশন হচ্ছে বলে জানান বিটিআরসি কমিশনার। তিনি বলেন, সাদা দৃষ্টিতে অনেক লাইসেন্স বাতিল হচ্ছে মনে হলেও আসলে বিভিন্ন স্তরে তাদের সুযোগ থাকছে। তবে সবাইকে অন্তর্ভূক্ত করা সম্ভব হবে না। সব জায়গাতে প্রতিযোগিতা করতে হবে। একীভূত হয়ে আসতে পারে। এই পলিসিটি সরকার বা ব্যবসায়ী নয় জনগণের স্বার্থ দেখা হয়েছে। এক্টিভ শেয়ারিংয়ের কারণে অনেক রিসোর্স বাঁচবে। সঙ্গে ডলারেরও সাশ্রয় হবে।   

 নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ভয়েস ফর রিফর্ম ও টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্লাটফর্ম (টিআইপিএপি) এর যৌথ আয়োজনে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব। তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ফাহিম মাশরুরের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, বাক্কো সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম, আইসিটি বিভাগের শ্বেতপত্র প্রকাশ টাস্কফোর্সের প্রধান অধ্যাপক নিয়াজ আসাদুল্লাহ প্রমুখ। 

ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউএম