মহাকাশ থেকে সুনীল অর্থনীতিতে বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

মহাকাশ থেকে সুনীল অর্থনীতিতে বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত
৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৫৫  

আসছে দিনে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) কৌশলগত দিক নির্দেশনা নিয়ে ৬ জানুয়ারি, মঙ্গলবার একটি আলোচনা সভা হয়েছে। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় স্যাটেলাইট ও মহাকাশ খাতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বিএসসিএল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় স্যাটেলাইটের ব্যবহার বাড়ানো গেলে এর প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে। এতে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে, দুর্নীতি হ্রাস পাবে এবং অপরাধ কমবে। তিনি বলেন, স্যাটেলাইট প্রযুক্তির বহুমাত্রিক ব্যবহার এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনার জন্য স্যাটেলাইট অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।

আর প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো লাভজনক কোম্পানিতে পরিণত হওয়ায় বিএসসিএলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিএসসিএল বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করতে পারবে। বিশেষ করে কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আবহাওয়া ও বন মন্ত্রণালয়সহ বহু খাতে এর কার্যকর ব্যবহার সম্ভব। তিনি প্রযুক্তির মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিএসসিএল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, বিএসসিএল স্যাটেলাইট ইন্ডাস্ট্রির নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। বর্তমান বিশ্বে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে নানাবিধ সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে। বিএসসিএলও আগামী বছরগুলোতে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে বৈচিত্র্য এনে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সমাধানে কাজ করবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. জাবের বলেন, বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার মাছ ধরার নৌকা রয়েছে, যেগুলো ট্র্যাক করা কঠিন। সাশ্রয়ী মূল্যে এসব নৌকা ট্র্যাক করা গেলে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, রিমোট সেন্সিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য বিএসসিএলের সঙ্গে যৌথভাবে স্পেস-বেজড রিসার্চ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ মহাকাশ শিল্পে একটি দৃশ্যমান অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. এমদাদ উল্ল্যাহ মিয়ান বলেন, কৃষি খাতে ২৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কোন ফসল কত পরিমাণ উৎপাদিত হয়েছে তা নির্ণয়, আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং পাহাড়ি অঞ্চলের জমির ব্যবহার বিশ্লেষণে কাজ করা হবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. ইমাদুর রহমান। সুনীল অর্থনীতিতে বিএসসিএল এর কী করা উচিত তার ওপর আলোকপাত করে রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) আবুল কালাম আজাদ। এছাড়াও মহাকাশ শিল্পে বাংলাদেশ কীভাবে সামনের কাতারে আসতে পারে তার দিক নির্দেশনা তুলে ধরেন বাংলাদেশ এরোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুর রহমান বকুল।

ডিবিটেক/ইউএইচ/এমইউএম