৩০ নভেম্বর থেকে টেকনোলজিস্ট-ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি

৩০ নভেম্বর থেকে টেকনোলজিস্ট-ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি
২৫ নভেম্বর, ২০২৫ ২০:৫০  

 চার দিনের মধ্যে দশম গ্রেড বাস্তবায়নের না করলে ৩ ডিসেম্বর অর্ধ দিবস ও ৪ ডিসেম্বর থেকে কমপ্লিট শাটডাউন চলবে। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে আল্টিমেটামকে গুরুত্ব না দিলে আগামী ৩০ নভেম্বর, রবিবার থেকে দেশের সকল সরকারি বেসরকারি, বিশেষায়িত হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে একযোগে কর্মবিরতি শুরু করবেন। 

২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ফার্মাসিস্ট ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। 

পরিষদের সমন্বয়ক ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (এম-ট্যাব) মহাসচিব মো. বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব জানান, ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে সারাদেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ এবং স্মারক লিপি প্রদান করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বৈষম্যবিরোধী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট পরিষদের মহাসচিব মো. রিপন শিকদার বলেন, স্বাস্থ্যসেবা একটি টিম ওয়ার্ক, যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তত্ত্বাবধানে চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টগণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। রোগীদের সেবাদানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রোগ নির্ণয় (এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, রক্ত পরীক্ষা, ক্যানসার প্রতিরোধে রেডিওথেরাপী, ফিজিওথেরাপি, ডেন্টাল)। এতে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখেন মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। অন্যদিকে ফার্মাসিস্টরা মেডিসিন স্টোরের দায়িত্ব, ঔষধের চাহিদাপত্র প্রস্তুতকরণ, সংরক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ, বিতরণসহ ইত্যাদি দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। এ পেশায় বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত এ পেশায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, বরং অবহেলিত রয়েছে বছরের পর বছর।

তিনি আরও বলেন, নানাবিধ বৈষম্য আর বঞ্চনায় জর্জরিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট পেশার দুর্ভাগ্যজনক অধ্যায় তিন দশকেও ১০ম গ্রেডের পদমর্যাদা বাস্তবায়িত না হওয়া। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়েই এ পেশার পথচলা শুরু হলেও ১৯৮৯ সাল পরবর্তী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পেশাজীবীদের ১০ম গ্রেড পদমর্যাদার দাবিটি অব্যাহতভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ে বারংবার উপস্থাপিত হয়ে আসছে। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন, সংগ্রাম, সহায়ক কর্মসূচি পালন, দাপ্তরিক চিঠি চালাচালি, আবেদন, সর্বোপরি জনপ্রশাসন বিধি শাখার সমস্ত চাহিদা পূরণ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নানাবিধ উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয় অবিরতভাবে কোয়ারী দেওয়ার মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ ও জটিলতাই তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ১৯৯৪ সাল হতে ২০২৫ পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৩১ বছর এই জাতি ১০ম গ্রেড পদমর্যাদার জন্য সংগ্রাম করে আসছে। ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সকল গ্রুপকে ২য় শ্রেণীর গেজেটেড এবং বেতন ১০ম গ্রেড উন্নীত করণের বিবেচনার জন্য ২০০৩ সালে প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটিতে উপস্থাপন হলেও আজ পর্যন্ত দাবিটি বাস্তবায়ন হয়নি।

‘অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড পদমর্যাদার দাবি পুনরায় আলোচনায় এসেছে। সর্বশেষ গত বছর একাধিকবার ১০ম গ্রেডের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গত ১ জানুয়ারি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব বরাবর ১০ম গ্রেড প্রদানসংক্রান্ত প্রস্তাবনা প্রেরণ করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯৪ সালে উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও সমমানের পদে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমাধারীদের ২য় শ্রেণির পদমর্যাদাসহ ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। ২০১৭ সালে নার্সিং ডিপ্লোমাধারীদের ২য় শ্রেণির পদমর্যাদাসহ বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। ২০১৮ সালে কৃষি ডিপ্লোমাধারীকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। আমরা সরকারের সদয় সু-দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে একই সমযোগ্যতা সম্পন্নকারীদের ১০ম গ্রেড প্রদান করা হলেও সমযোগ্যতা সম্পন্ন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা নার্স, ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের ন্যায় সম-ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদেরকেও ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

রিপন শিকদার বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করি, সরকার আমাদের যৌক্তিক দীর্ঘদিনের ন্যায্য অধিকার ১০ম গ্রেড এর সরকারি আদেশ জারির মাধ্যমে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং ফার্মাসিস্টদের দীর্ঘ ৩১ বছরের বৈষম্যের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে আন্দোলনের পথে ঠেলে দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। অন্যথায় আগামী সপ্তাহ থেকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি এবং কর্মবিরতির মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমটিএ) সভাপতি খাজা মাইনুদ্দীন মঞ্জু, বৈষম্যবিরোধী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট পরিষদের সভাপতি আব্দুস সামাদ, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গাজী মো. সাইফুল্লাহ, এমট্যাবের সভাপতি একেএম মুসা আল লিটন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ফোরামের সভাপতি মো. সোহেল রানা, ডিপ্লোমা ফার্মাসি অ্যাসোসিয়েশন (ডিফ্যাব) সদস্য সচিব মো. নাজমুল হুদা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ডিবিটেক/এমভি/মুইম