আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনার পর আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ নিয়ে পদক্ষেপ: তথ্য উপদেষ্টা

আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনার পর আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ নিয়ে পদক্ষেপ: তথ্য উপদেষ্টা
৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪২  

কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ ইস্যুতে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ্যে এলো ভারত-বাংলাদেশ দ্বন্দ্বে তীব্রতা। গুটিকয়েক উগ্রবাদীদের হুমকিতে আইপিএল থেকে  নাম বাদ দেয়ায় ভারতে বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই ঘটনার বৈধতা নিয়ে আপত্তি করে নিন্দা জানিয়ে ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও। পোস্টে আইন উপদেষ্টা আইপিএলের সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা এবং প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাইয়ের পর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সচিবালয়ের গণমাধ্যমকেন্দ্রে সেখানে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সদস্যদের সঙ্গে ৪ জানুয়ারি (রবিবার) মতবিনিময়কালে এমনটা জানিয়েছেন উপদেষ্টা। 

 মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হক। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদলের সঞ্চালনায় প্রশ্নোত্তর পর্বে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বিষয়টা হচ্ছে যে—খেলাটা যদি খেলার জায়গায় আমরা রাখতে পারতাম খুবই ভালো হতো। কিন্তু আনফরচুনেটলি (দুর্ভাগ্যবশত) খেলাটার মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আসা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য সময় আমরা কী বলি? দুইটা দেশের মধ্যে যদি রাজনৈতিক টেনশন থাকেও—যে কোনো দুটি দেশ, আমি বাংলাদেশ-ভারত, বাংলাদেশ-নেপাল এরকম বলছি না, ভারত-নেপাল, ভারত-মালদ্বীপ—এটা বলছি না, বলছি দুইটা দেশের মধ্যে যদি রাজনৈতিক টেনশন থাকেও—বলে যে সাংস্কৃতিক এক্সচেঞ্জ, খেলাধুলা, এগুলোর মাধ্যমে এটা কমিয়ে আনা যায়। এখানে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো কাজটা (মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া) করা হয়েছে।’

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়কে নিশ্চিত করার পরে, তাকে রাজনৈতিক যুক্তিতে...যেটা আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখেছি, বলা হচ্ছে যে, ওকে নেওয়া হবে না। তো এরকম সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আমাদের দেশের জনগণেরও তো মনে একটা আঘাত লাগে। তাদের মধ্যেও একটা প্রতিক্রিয়া হয়।

সৈয়দা রিজওয়ান হাসান বলেন, ‘সেরকম জায়গায় আমাদেরও একটা অবস্থান নিতে হবে। আমরা সেই অবস্থানের আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা এবং প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করছি। এটি করার পরে আমরা একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।’

এদিকে মোস্তাফিজ ইস্যুতে  ৩ জানুয়ারি (শনিবার) রাতে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ। বৈঠকে পরিচালকদের সম্মতিতে আইসিসিতে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। যেখানে তিন প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইবে বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড।  উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল ঠিক কি ধরনের নিরাপত্তা পাবে। অন্যান্য দলের চেয়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে কিনা। ব্যক্তি মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ ভারত সরকার পুরো বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কতটুকু সামর্থ্য রাখে, সে প্রশ্নও থাকবে চিঠিতে। বিশ্বকাপে শুধু ক্রিকেটার নয়, সংবাদ সংগ্রহে বাংলাদেশি গণমাধ্যম কর্মী, বিসিবি অফিসিয়ালস, কিংবা সমর্থকদের জন্য ভারত নিরাপদ কিনা?–এই তিন প্রশ্নের উত্তর সন্তোষজনক না হলে ভারতে বিশ্বকাপ খেলার বিষয়ে নতুন করে ভাববে বিসিবি। চিঠি দেয়া হবে আইপিএলের প্রধান নির্বাহীকেও। ঠিক কি ধরনের প্রেক্ষাপটে মোস্তাফিজ ভারতে অনিরাপদ, তা জানতে চাইবে বিসিবি।

ডিবিটেক/আইএইচ/বিআর