দেশের নেটওয়ার্কে চালুতে বাধ্যতামূলক হলো  হ্যান্ডসেট নিবন্ধন 

দেশের নেটওয়ার্কে চালুতে বাধ্যতামূলক হলো  হ্যান্ডসেট নিবন্ধন 
১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:৫৮  

এবার সিমের মতো হ্যান্ডসেটও এলো জাতীয় নিবন্ধনের অধীনে। বিজয় দিবসে চালু করেও বাস্তবায়নে আরও ১৫ দিন সময় বাড়িয়ে ঘোষিত সময় হিসেবে  ১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে পুরোদস্তুর চালু হলো ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম। ফলে আগামীতে দেশের টেলিকম নেটওয়ার্কে নতুন যুক্ত হওয়া প্রতিটি হ্যান্ডসেটকেই আগেভাগে এই তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হতে হবে। এতে করে অবৈধ হ্যান্ডসেটগুলো বন্ধের প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে। ফলে এই পদ্ধতিকে বরাবরই স্বাগত জানিয়ে আসছে বিটিআরসি’র তালিকাভূক্ত আমদানিকারক ও স্থানীয়ভাবে মোবাইল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। 

এর আগে, এনইআইআর চালুর কার্যক্রম পিছিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গ্রেচ্যানেলে দেশে মোবাইল ফোন আমদানি করা ‘অতালিকাভূক্ত’ ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে অবিক্রীত বা স্টকে থাকা ফোনের তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। ৩১ ডিসেম্বর, বছরের শেষ দিনে সেই সময়সীমা শেষ হয়। ফলে বিনা ট্যাক্সে হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের সেই সুযোগও শেষ হলো ওই ব্যবসায়ীদের। 

এনইআইআর বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান, বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী স্পষ্ট জানিয়েছেন,  বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল থাকা অনুমোদিত বা অননুমোদিত কোনো হ্যান্ডসেটই বন্ধ করা হবে না। এমনকি ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা অবিক্রীত যেসব হ্যান্ডসেটের আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) তালিকা বিটিআরসিতে জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও বন্ধ হবে না। শুধু নতুন যেসব ফোন নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে, সেগুলোই এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে।


নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রবাসীরা তাদের ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি দুটি নতুন হ্যান্ডসেট দেশে আনতে পারবেন। আর সেসব ফোন এনইআইআরে নিবন্ধনের জন্য তিন মাসের সময় পাবেন তারা। এই তিন মাস হ্যান্ডসেটগুলো সচল থাকবে। ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্র দিয়ে এসব ফোন এনইআইআরে নিবন্ধন করা যাবে।

এদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ যদি বৃহস্পতিবার হ্যান্ডসেট আমদানি ও উৎপাদন শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবেই এনইআইআর চালু হবে।

এর আগে, গত ১০ ডিসেম্বর অবৈধ হ্যান্ডসেট বা ‘গ্রে মার্কেট’–এর ফোন বন্ধের প্রতিবাদে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মোড়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন বিক্রেতারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এনইআইআর-এ তাদের কাছে থাকা হ্যান্ডসেট বিনা শুল্কে নিবন্ধনের সুযোগ দিয়ে তিন মাসের জন্য সময় দেয়া হয়। তবে, বিটিআরসির এক কর্মকর্তা জানান, তিন মাস পেছানোর ওই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। একইসঙ্গে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট নিবন্ধিত হ্যান্ডসেটের সংখ্যা সম্পর্কেও কোনো তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে সিদ্ধন্ত অনুযায়ী এনইআইআর বাস্তবায়ন হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

বিটিআরসির এক কর্মকর্তা জানান, শুধু নতুন যেসব ফোন নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে, সেগুলোই এনইআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে।  প্রবাসীরা তাদের ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি দুটি নতুন হ্যান্ডসেট দেশে আনতে পারবেন। এনইআইআরে নিবন্ধনের জন্য তারা তিন মাসের সময় পাবেন। এই তিন মাস হ্যান্ডসেটগুলো সচল থাকবে। ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্র দিয়ে এসব ফোন এনইআইআরে নিবন্ধন করা যাবে।

বিটিআরসি বলছে, অবৈধ হ্যান্ডসেট রোধ, চুরি হওয়া ফোন বন্ধ এবং মোবাইল বাজারের বিশৃঙ্খলা দূর করতেই এনইআইআর চালু করা হচ্ছে। কারিগরিভাবে এনইআইআর মূলত আইএমইআই, সিম নম্বর ও আইএমএসআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি)- এই তিনটি বিষয় যাচাই করে নেটওয়ার্ক সচল রাখে। এটি কোনো কল রেকর্ড করে না, মেসেজ পড়ে না কিংবা ইন্টারনেট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে না।

তবে, এনইআইআর একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে ডিভাইস ও সিমকে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত করায় নজরদারির উদ্বেগও রয়েছে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এনইআইআর নিজে নজরদারির হাতিয়ার না হলেও সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হলে এটি নজরদারির সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতেও চুরি হওয়া ফোন বন্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনইআইআর ডিজিটাল অর্থনীতিতে জালিয়াতি রোধ করতে পারে। তবে সমালোচকদের মতে, এর বৈধতা নির্ভর করবে কঠোর আইনি তদারকি, স্বচ্ছতা, যৌক্তিকতা এবং গোপনীয়তা সুরক্ষার ওপর।

এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগোযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত সংশোধিত টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় বিধান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সিম ও ডিভাইস নিবন্ধনের মাধ্যমে নাগরিকদের নজরদারি বা হয়রানি নিষিদ্ধ করে একটি ধারা অধ্যাদেশে যুক্ত করা হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে বা লঙ্ঘন করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
ডিবিটেক/ডিএসআর/ইকে