জি-মেইলসহ ১৮ কোটি ই-মেইলের পাসওর্য়াড ফাঁস

জি-মেইলসহ ১৮ কোটি ই-মেইলের পাসওর্য়াড ফাঁস
৩১ অক্টোবর, ২০২৫ ২১:৫৯  

এবার ফাঁস হলো বিশ্বের ১৮ কোটি ৩০ লাখ ব্যবহারকারীর ই-মেইল অ্যাকাউন্ট এবং এর পাসওর্য়াড! এর একটা বড় অংশ গুগলের ই-মেইল পরিষেবা জি-মেইল ব্যবহারকারীদের বলে জানাগেছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় ইমেলপাসওয়ার্ড ফাঁস হওয়ার ঘটনা হিসেবে এটিকে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

সাইবার ইনসাইডার ও ফোর্বসের রিপোর্ট অনুযায়ী, গুগল নিরাপদ থাকলেও সেই তথ্যের পুনর্ব্যবহার এবং বিক্রি হওয়ার বিপদ রয়েছে। ইতিমধ্যেই এই তথ্য ডার্ক ওয়েবে ঘুরছে। অনেক ব্যবহারকারী একাধিক অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। সে ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কিং, অনলাইন শপিং বা অফিসের মেইল অ্যাকাউন্টে হ্যাকাররা প্রবেশ করতে পারে।

তবে ব্যবহারকারীরা যাতে আতঙ্কিত হয়ে না পড়েন, সে জন্য গুগলের নিজস্ব সার্ভার বা সিস্টেম হ্যাক হয়নি বলে আগাম আশ্বস্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই তথ্য ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও ব্রাউজার থেকে এসেছে, যেখানে ব্যবহারকারীদের লগইন ডিটেলস চুরি করা হয়েছিল বলে তাদের দাবি।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ট্রয় হান্ট, যিনি ‘হ্যাভ আই বিন পনড’ প্ল্যাটফর্মটি পরিচালনা করেন, তিনি জানিয়েছেন এই নতুন ডাটাসেটটির নাম ‘সিন্থিয়েন্ট স্টিলার লগ থ্রেট ডাটা’ এটি কোনো একক ওয়েবসাইট বা সংস্থা থেকে হ্যাক করা হয়নি, বরং সারা বিশ্বের অসংখ্য সংক্রমিত ডিভাইস থেকে সংগ্রহ করা লগ ফাইল থেকে তৈরি করা হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম ‘হ্যাভ আই বিন পনড’–এর (এইচআইবিপি) ডাটাবেসে এই ফাঁস হওয়া তথ্য যোগ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ফাঁস হয়েছে কি না তা জানতে পারবেন। এখানে গিয়ে নিজের ই-মেল আইডি লিখে দিন। তাহলেই ওয়েবসাইটটি আপনাকে জানিয়ে দেবে, ডাটাসেটে আপনার আইডি রয়েছে, নাকি তা ফাঁস হয়ে গিয়েছে।

যদি আপনার সন্দেহ হয় যে আপনার জি-মেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে, তাহলে গুগলের ‘সিকিউরিটি চেকআপ’ টুল ব্যবহার করুন। এর মাধ্যমে আপনি অপরিচিত ডিভাইসের সন্দেহজনক আচরণ কিংবা থার্ড পার্টি অ্যাপকে চিহ্নিত করতে পারবেন, যেখান থেকে আপনার অ্যাকাউন্টে হামলা হতে পারে। কোনঅ কিছু ‘অদ্ভুত’ মনে হলেই সেটা সরিয়ে ফেলুন। এছাড়া যখনই জানতে পারবেন আপনার ই-মেইল আইডির তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছে, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে দেরি করবেন না। অবশ্যই শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন, যা অন্য কোথাও ব্যবহার করেননি। ‘টু ফ্যাক্টর অথেন্টিফিকেশন’ চালু করুন।