ফলো-আপ
কার্গো ভিলেজের আগুন নিয়ন্ত্রণে রিমোট কন্ট্রোল ফায়ারফাইটিং রোবট
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সের আগুন নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তির রিমোট কন্ট্রোল ফায়ারফাইটিং রোবট ব্যবহার করছে ফায়ার সার্ভিস। আগুনের কাছাকাছি সরাসরি ফায়ার ফাইটারদের প্রবেশ করানো বিপজ্জনক হওয়ায় রিমোট কন্ট্রোল রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি শক্তিশালী ফ্যান ও পানির জেটের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণ ধোঁয়া ও গরম বাতাস দূর করে দমকল কর্মীদের কাজে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে রোবটটি ব্যবহারের পর সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র মো. মাসুদুল হাসান মাসুদ।
১৮ অক্টোবর শনিবার ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, রোবটটি ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের আধুনিক অগ্নি নির্বাপন যন্ত্রের মধ্যে অন্যতম। এতে দ্রুত এবং নিরাপদভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব, যা বিপজ্জনক এলাকায় মানুষের জন্য ঝুঁকি কমায়।
শনিবার বিকেল ৫টার দিকে তিনি জানিয়েছিলেন বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। আগুনে কেউ হতাহত হয়েছে এমন সংবাদও আমাদের কাছে আসেনি।
দুপুর ২টা ৩৪ মিনিটে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের প্রথমে নয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পরে আরও ইউনিট যোগ হয়ে এখন মোট ৩৭টি ইউনিট কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
দুপুর আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় আগুন লাগায় ফ্লাইট চলাচল সাময়িক স্থগিত রয়েছে। ঢাকায় আসা ফ্লাইটগুলোগে চট্টগ্রাম ও সিলেটে পাঠানো হচ্ছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুনের উৎস ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। বিমানবন্দরের এয়ারফিল্ড রাত ৯টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। সর্বশেষ ৮টি ফ্লাইটের পর নতুন কোনো ফ্লাইট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ডাইভার্ট হয়ে আসেনি।
তবে কার্গো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিঅ্যান্ডএফের সদস্যদের সূত্র বলছে, আগুনের কারণে আমদানি করা ওষুধ, টেলিকমিউনিকেশনের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, গার্মেন্টস পণ্যসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। একইসঙ্গে কার্গো ব্যবস্থাপনার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এমনকি কার্গো সহসাই চালু হবে কিনা তা নিয়েও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকা কাস্টমস হাউজ সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি খাইরুল আলম ভূইয়া মিঠু গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছেন, ‘আগুনে হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এটি কীভাবে পূরণ হবে—তা বলা সম্ভব নয়।’







