ডব্লিওআরওবিডি ২০২৫ জাতীয় পর্বে স্বর্ণজয়ী ইনক্রেভো, সাইবার স্কোয়াড ও টিম লেজি গো

ডব্লিওআরওবিডি ২০২৫ জাতীয় পর্বে স্বর্ণজয়ী ইনক্রেভো, সাইবার স্কোয়াড ও টিম লেজি গো
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২১:৪৪  
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২৩:২৮  

ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ (ডব্লিওআরওবিডি) ২০২৫-এর জাতীয় পর্বে ফিউচার ইনোভেটরস সিনিয়র ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক পেয়েছে ৩ সদস্যবিশিষ্ট টিম ইনক্রেভো, ফিউচার ইনোভেটরস জুনিয়র ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক অর্জন করেছে ২ সদস্যবিশিষ্ট টিম সাইবার স্কোয়াড এবং ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার্স ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক পেয়েছে ৩ সদস্যবিশিষ্ট টিম লেজি গো। এছাড়াও প্রতি ক্যাটাগরিতেই সিলভারপদক ও ব্রোঞ্জপদক সহ মোট ১৪ টি দলকে পদক দেয়া হয় এবং ৫ টি দলকে সম্মানজনক স্বীকৃতি দেয়া হয়। 

এদের মধ্যে টিম লেজি গো সদস্যরা হলেন ইকবাল সামিন প্রিথুল, আবু নাফিস মোহাম্মদ নুর রোহান ও রাকিবুল ইসলাম রাকিব। 

বড়দের গ্রুপে স্বর্ণজয়ী রংপুর থেকে আসা দল ইনক্রেভো দল দেখিয়েছে এআই ও এনএলপি ব্যবহার করে কীভাবে একটি স্মার্ট মুদি দোকানের মডেল। এই মডেল তৈরির কারিগরেরা হলেন- আব্দুল্লাহ আল মিজান, সাজ্জাদ আল ফুয়াদ ও নাফিস ইস্তাই তাওফিক অন্তু। 

আর শিশু পরিচর্যার মডেল দিয়ে ছোটদের দলে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত টিম সাইবার স্কোয়াড দলের সদস্যরা হলেন আফিয়া হুমাইরা ও হুমাইরা আফিয়া। আফিয়া হুমাইরা বলেন, “ এই স্বর্ণপদক আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণার। আমরা রোবোটিক্সে আরও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে চাই এবং দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য অর্জন করতে চাই।”

২৫ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার রাজধানীর  ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে সন্ধ্যায় বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম মিয়া। 

বর্নাঢ্য এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম মিয়া। তিনি এই আয়োজনের প্রতি সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “এই আয়োজন দেশের তরুণ প্রতিভাদের রোবোটিক্স এবং প্রযুক্তিতে উৎসাহিত করবে, এবং তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশে সহায়ক হবে। আমি আশা করি এই ধরনের প্রতিযোগিতা আরও বেশি শিক্ষার্থীকে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে। এছাড়া, এটি দেশের প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

এসময় তিনি ইউআইইউ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রোবটিক্স সেন্টারকে শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ বিভাগে রূপান্তরিত করা হবে বলেও জানান।

এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন এসওএসই অনুষদের ডিন ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসান সারওয়ার, আইআরআইআইসি এর পরিচালক খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. মোহাম্মদ খলিলুর রহমান, দ্য বিজনেজ স্ট্যান্ডার্ড-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক খালেদ মাসুদ, ব্রেইন স্টেশন ২৩- এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাইসুল কবির, ক্রিয়েটিভ আইটির সভাপতি মনির হোসেন ও সিওও জিয়াউদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক এর সভাপতি মুনির হাসান।

ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের সভাপতি মুনীর হাসান তার বক্তব্য শুরু করেন সকল অংশগ্রহণকারী, তাদের অভিভাবক, বিচারক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে। তিনি এ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকেও (UIU) আন্তরিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

তিনি ঘোষণা করেন, আগামী এক বছরের মধ্যে সারা বাংলাদেশে ১০টি উন্নত রোবটিক্স সেন্টার স্থাপন করা হবে, যাতে তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হয়। ভবিষ্যৎ ভিশন তুলে ধরে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আগামী জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সারা দেশ থেকে ১০০টি দল অংশ নেবে, যেখানে এ বছর ছিল ৭০টি দল। এছাড়া, ইভেন্ট সফল করতে স্বেচ্ছাসেবী সহায়তার জন্য তিনি ইউআইইউ মার্স রোভার টিম এবং ইউআইইউ রোবটিক্সকে ধন্যবাদ জানান।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. হাসান সরোয়ার তরুণ অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান ও উপস্থাপনা দক্ষতায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি তাদেরকে মেন্টরশিপ ও দিকনির্দেশনা পাওয়ার জন্য ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (UIU) আসার আমন্ত্রণ জানান। তিনি এমন একটি অসাধারণ অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য মুনীর হাসানকেও ধন্যবাদ জানান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি অব্যাহতভাবে শেখা ও নিজেকে উন্নত করার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতের সাফল্যের জন্য মজবুত ভিত্তি গড়তে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের উপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

এর আগে ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ (ডব্লিওআরওবিডি) শিক্ষার্থীদের রোবটিক্স অলিম্পিয়াড বিষয়ে উৎসাহিত করতে জুনমাসের বিভিন্ন সময়ে ১৪টি এক্টিভেশন প্রোগ্রাম আয়োজন করে। দেশের ৫টি জেলায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ওয়ার্কশপগুলো করা হয় যেখানে প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। ২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে এই অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করছে এবং প্রতিবছরই অর্জন করে চলেছে একের পর এক সাফল্য। এছাড়াও দেশের আটটি বিভাগে শিক্ষার্থীদের রোবোটিকস ও এই অলিম্পিয়াড সম্পর্কে অবহিত করা এবং অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন অ্যাক্টিভেশন কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ (ডব্লিউআরওবিডি) ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) যৌথভাবে এই অলিম্পিয়াড আয়োজন করে। জাতীয় আয়োজনের হোস্ট হিসেবে ছিল ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। পুরো আয়োজনের সহযোগী হিসেবে ছিল ক্রিয়েটিভ আইটি এবং ব্রেইন স্টেশন ২৩।

আগামী নভেম্বর মাসে সিংগাপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড (ডব্লিউআরও) ২০২৫, যেখানে অংশ নেবে বাংলাদেশ জাতীয় দল।

ডিবিটেক/ মো: তামিম/ইহক