ডিজিটাল বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ প্রস্তুত

অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পণ্য বিক্রিতে দুই বছরের দণ্ড, ১০ লাখ টাকা জরিমানা

অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পণ্য বিক্রিতে দুই বছরের দণ্ড, ১০ লাখ টাকা জরিমানা
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৯:০১  
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৩:০২  

ডিজিটাল বাণিজ্যের প্রসার, শৃঙ্খলা রক্ষা, বাণিজ্য-বিরোধ নিষ্পত্তি ও অপরাধ প্রতিরোধের তদারক করতে ডিজিটাল বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ গঠন করছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ই-কমার্স খাতের বিকাশ ও এ খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য এ অধ্যাদেশ গঠন করা হচ্ছে। অধ্যাদেশ পাস হলে কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। ডিজিটাল বাণিজ্যের প্রসার, শৃঙ্খলা রক্ষা, বাণিজ্য-বিরোধ নিষ্পত্তি ও অপরাধ প্রতিরোধের তদারক করবে এ কর্তৃপক্ষ। 

তদারকিতে অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পণ্য বিক্রিতে দুই বছরের কারাদণ্ড, অনাদায়ে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি কিংবা নির্ধারিত সময়ে পণ্য বা সেবা সরবরাহ না করলে পণ্য মূল্যের কয়েক গুণ জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে ডিজিটাল বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশে। এরইমধ্যে অধ্যাদেশটির খসড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে তিনি সেটি অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উত্থাপন করাবেন বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। সূত্রমতে, খসড়া অধ্যাদেশটি উপদেষ্টা পরিষদে পাস হলে ‘আইনের খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক মতামত প্রদানসংক্রান্ত কমিটি’র বৈঠকে পাঠানো হবে। 

ওই কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স নিয়ে দেশে ই-কমার্স বা ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করা যাবে না। ডিজিটাল কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিজিটাল বিজনেস আইডেনটিটি (ডিবিআইডি) নিবন্ধন দেবে এ কর্তৃপক্ষ। তবে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলে কর্তৃপক্ষ নিবন্ধন বাতিল করে দেবে। কর্তৃপক্ষ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হবে এ কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাণিজ্যমন্ত্রী, বাণিজ্য উপদেষ্টা বা বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীকে প্রধান করে গঠন করা হবে উপদেষ্টা পরিষদ।

অধ্যাদেশের খসড়ায় ‘ডিজিটাল বাণিজ্য’ এর সঙ্গায় বলা হয়েছে, যেকোনো ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইনে পণ্য ও সেবা কেনাবেচা বোঝাবে। অনলাইনে কেনাবেচাযোগ্য পণ্য বা সেবা প্রদর্শিত বা ঘোষিত হতে হবে এবং মূল্য পরিশোধ করার ব্যবস্থা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। আর ‘ডিজিটাল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান’ বলতে বোঝানো হবে অনলাইনে নিজস্ব নামে বা নিজস্ব পরিচালনায় ওয়েবসাইট, মার্কেটপ্লেস বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে এককভাবে বা যৌথভাবে অনলাইনে পণ্য বা সেবা বিক্রি করবে বা বিক্রি করার জন্য প্রদর্শন বা ঘোষণা দেবে-এ ধরনের নিবন্ধিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে।

এছাড়াও মিথ্যা তথ্য দিয়ে পণ্য বিক্রি করলে অনলাইন বিক্রেতাকে দুই বছরের কারাদণ্ড, অনাদায়ে ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে ওই অধ্যাদেশে। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে পণ্য বা সেবা সরবরাহ না করলে মূল্যের কয়েক গুণ জরিমানা আরোপ করা হবে। নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রেও থাকছে বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান।

অধ্যাদেশের খসড়ায় বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া ডিজিটাল বা গিফট কার্ড, ওয়ালেট, ক্যাশ ভাউচার করা যাবে না। করলে জরিমানা গুনতে হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে লটারির আয়োজন করলেও গুনতে হবে বড় অঙ্কের জরিমানা। 

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের মে মাসেও তৎকালীন মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে একটি খসড়া অনুমোদন হয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিষয়টি আর এগোয়নি। এখন খসড়াটি নতুন করে তৈরি করা হয়েছে।