অধ্যাদেশ অনুমোদনে ৫ যুক্তি

স্বাধীন সত্ত্বায় ফিরতে খসড়া অধ্যাদেশ মন্ত্রণালয়ে পাঠালো বিটিআরসি

স্বাধীন সত্ত্বায় ফিরতে খসড়া অধ্যাদেশ মন্ত্রণালয়ে পাঠালো বিটিআরসি
১৩ আগষ্ট, ২০২৫ ০৭:১৬  
১৩ আগষ্ট, ২০২৫ ২৩:৫০  

স্বাধীন সত্ত্বায় ফিরতে  ২০১০ সালের বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) আইন বাতিল করে কয়েক মাস ধরে প্রণীত খসড়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নতুন খসড়ায় সরকারের পূর্বানুমতির বিধান না রেখেই লাইসেন্স ইস্যু, নবায়ন, হস্তান্তর, স্থগিতকরণ ও বাতিলের ক্ষমতা কমিশনের স্বাধীনভাবে প্রয়োগের সুযোগের পাশাপাশি কমিশনের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রক্রিয়াগত ব্যাখ্যা এই প্রস্তাবনায় রয়েছে।  


ফলে খসড়া অধ্যাদেশটি অনুমোদিত হলে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা কমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিসহ নীতিগত স্বাধীনতা আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অধ্যাদেশটিতে ইন্টারনেট সেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এর প্রবাহমানতায় হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে এসম্পর্কিত কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় নিয়োজিত ব্যক্তি ও সংস্থার দায়িত্ব, ক্ষমতা ও কর্মপদ্ধতির সুস্পষ্ট বিধান সংযোজনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।   


নতুন অধ্যাদেশের খসড়ায় অনুমোদন চেয়ে লেখা চিঠিতে ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন ২০১০ সালের সংশোধনের মাধ্যমে বিটিআরসির স্বাধীনতা গুরুতর ভাবে খর্ব করেছে’ উল্লেখ করা হয়েছে। একইসেঙ্গ এই আইনটি অনাকাঙ্ক্ষিত দাপ্তরিক জটিলতা, দীর্ঘসূত্রিতা এবং পক্ষাপতিত্বের সুযোগ সৃষ্টি করেছে বলে বাতিলের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন অধ্যাদেশে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন, সাইবার সুরক্ষা আইন, ডেটা গভর্নেন্স ও ইন্টার অপারেবিলিটি আইন, ন্যাশনাল এআই পলিসি, টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স, মেইলিং ই-কমার্স ও কুরিয়ার সার্ভিস পলিসির মতো বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। 


কমিশনের আইন শাখার মহাপরিচালক আশীষ কুমার কুণ্ডু ১২ আগস্ট, মঙ্গলবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব বরাবর লেখা এ সংক্রান্ত পত্রে ৫টি অনুচ্ছেদে বিস্তারিত যুক্তি তুলে ধরেছেন। 


এরমধ্যে ইন্টারনেটকে মানবাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠায় মূল আইনের ৯৭ ধারা নতুন করে প্রণয়ন করে ৯৭ক অংশটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী পুণর্গঠনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ সেবার অপব্যবহার রোধে নিরাপত্তার স্বার্থে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এনটিএমসি ইস্যুতে একটি এজেন্সিকে গেটওয়ে হিসেবে রেখে আইনশৃঙ্খল রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে ‘আড়িপাতায় (কোয়াসি বা প্যাসিভ জুডিশিয়াল অ্যাকনলেজমেন্ট) আইনিভাবে পরোক্ষ সুযোগের কথা বলা হয়েছে।


এছাড়াও টেলিযোগাযোগ পরিকাঠামোর নিরাপত্তা বিধানের প্রস্তাব সহ সরকারের সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে তরঙ্গ ভাগাভাগি, ট্রেডিং, লিজিং ও রিফার্মের সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে নতুন অধ্যাদেশে। ওটিটি, কন্টেন্ট সেবা ও অন্যান্য ডিজিটাল সেবা ইত্যাদির সঙ্গা ও বিধি নিষেধ যুক্ত করা হয়েছে নতুন খসড়ায়। 


একইভাবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এর খসড়ায় সরকারের রাজস্ব আদায় ও রাজস্ব ফাঁকি রোধ করতে ২৬(৩) ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এই ধারার মাধ্যমে বিটিআরসি নিজেই বকেয়া পাওনা আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে পারবে।