ব্যবসায়ীকে পাথর মেরে হত্যার প্রতিবাদে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ

ব্যবসায়ীকে পাথর মেরে হত্যার প্রতিবাদে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ
১১ জুলাই, ২০২৫ ২৩:৫৯  
১২ জুলাই, ২০২৫ ০১:১৮  

চাঁদা না দেয়ায় ঢাকার মিডফোর্ড হাসপাতালের সামনে যুবদল নেতা-কর্মী কর্তৃক ব্যবসায়ীকে পাথর মেরে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১১ই জুলাই) সন্ধ্যাথেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

যুবদল নেতা কর্তৃক ব্যবসায়ী হত্যার প্রতিবাদে নোবিপ্রবিতে রাত ১০টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল কেরেছে বুয়েট শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাস প্রদক্ষীণ শেষে রাজু ভাস্কর্যের সামনে তারা সমাবেশ করেছেন। এসময় জুলাইয়ের হাতিয়ার আবারো গর্জে ওঠার শ্লোগান দেন তারা।  

একইভাবে রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের ডুয়েট ক্যাম্পাসে ঢাকার মিডফোর্ডে যুবদলের সন্ত্রাসী কতৃক পাথর নিক্ষেপ করে ব্যাবসায়ীকে হত্যা এবং দেশব্যাপী অব্যাহত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, ২৪ এর আন্দোলনের পর আবারও নৃশংসতার নগ্ন নৃত্য দেখলাম। এটা আইয়্যামে জাহেলিয়াতকে হার মানিয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তির আগেই দেশে আরেকটি আওয়ামী লীগ এই বাংলার জমিনে আবির্ভূত হবে তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। শেখ হাসিনার খুনী বাহিনী আবার তারেক জিয়ার খুনী বাহিনী হয়ে ফিরে আসবে তা কল্পনাও করতে পারিনি। তবে এবার আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আর যদি রক্ত ঝড়ে আওয়ামী লীগ ভারতে পালিয়ে যেতে পারলেও আপনারা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন না। 

রাত সাড়ে আটটায় হাবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিলটি শেষ হয়।

এসময় শিক্ষার্থীরা 'টু জিরো টু ফোর, চাঁদাবাজি নো মোর', 'আমার ভাই কবরে, খুনি কেনো বাহিরে', 'চাঁদাবাজের ঠিকানা,এই বাংলায় হবে না','বিচার বিচার বিচার চাই, সোহাগ হত্যার বিচার চাই' সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘চাঁদা না দেয়ায় যুবদল নেতা কর্তৃক ব্যবসায়ী সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। ৫ই আগস্টের পর আমরা নতুন করে কোনো দল স্বৈরাচার হয়ে উঠুক তা চাই না। আমরা চাই শান্তি ও সুশৃঙ্খল একটি দেশ। কিন্তু ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি একটি দলের নেতাকর্মীরা অন্তর্কোন্দল, চাঁদাবাজি, ধর্ষণে জড়িয়ে পড়েছেন৷ শুধু তাই নয় সেই দলটির যত জন না জুলাই আন্দোলনে শহিদ হয়েছে, তার থেকে বেশি নেতাকর্মী মারা গেছে তাদের নিজেদের দলীয় কোন্দলেই।’

শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ‘৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে যারাই স্বৈরাচার হয়ে উঠার চেষ্টা করবে, আমরা জুলাইয়ের স্পিরিট ধারণ করে আবারও তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বো। প্রয়োজনে আমরা আরেকটি গণঅভ্যুত্থান ঘটাবো৷ আমরা ইন্টেরিম সরকারকে বলতে চাই, দ্রুত এইসব খুনি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। যদি আপনারা চাঁদাবাজ এবং খুনিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে না পারেন, তাহলে সরকারে বসে আপনাদের কাজটাই বা কি?। সেই সাথে কিছু মিডিয়া বুধবারের এই ঘটনাকে সামনে আনেননি শুধুমাত্র একটি দলের দাসত্বের কারণে। আমরা গণমাধ্যমকর্মী ও মিডিয়া পলিসি মেকারদের বলবো, এসব দাসত্ব ছেড়ে দিয়ে সত্য ও অপরাধের খবর প্রচার করুন দলমত নির্বিশেষে।’