অনলাইনে উন্মুক্ত থাকবে প্রকল্পের নথি

অনলাইনে উন্মুক্ত থাকবে প্রকল্পের নথি
২২ জুন, ২০২৫ ০০:০৫  
২২ জুন, ২০২৫ ০৭:০৬  

অনলাইনে উন্মুক্ত থাকবে প্রকল্পের নথি সরকারের নেয়া প্রকল্প গোপনীয় না করে উন্মুক্ত করতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। কাঠামোগত ত্রুটিসহ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ঘটমান অনিয়ম ও দুর্নীতি কমাতেই এমন উদ্যোগ।

এ প্রসঙ্গে 'এখন থেকে প্রকল্পের সবগুলো ধাপের নথি অনলাইনে সংরক্ষণ করা হচ্ছে' উল্লেখ করে তিনি বলেছন, এসব নথির অধিকাংশ তথ্যই উন্মুক্ত থাকতে পারে। এসবে গোপনীয়তার কিছু নেই। 

গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‍্যাপিড) আয়োজিত ‘‌এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এমনটাই বলেছেন উপদেষ্টা।

রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিগত সরকারের আমলে নেতাদের পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই টেন্ডার পেত জানিয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘‌আমি এসে দেখেছি বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে। এটি নাকি অভিজ্ঞতা দেখে দেয়া হয়। মন্ত্রণালয় যাকে টেন্ডার দিচ্ছে সেই তো অভিজ্ঞ হবে। সাবেক সংসদ সদস্যরা অনেক প্রকল্প নিজেদের পকেটে পুরেছেন। তখন টেন্ডার যারা পেতেন, তাদের সঙ্গে যোগসাজশেই প্রতি প্রকল্পে ১০ শতাংশ দুর্নীতি হতো। এটাই হচ্ছে টেন্ডারে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণ।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনেকটা অসহায়ের সুর ভেসে ওঠে তার কণ্ঠে। তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের অযাচিত খরচ কমানো গেলে বাজেটে পরিচালন ব্যয় কমানো সম্ভব। কিন্তু প্রকল্প কর্মকর্তারা নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারেন, সে আশঙ্কা থেকে তাদের অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে আনা যাচ্ছে না। অপরদিকে নির্দলীয় সরকারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এবং সবচেয়ে অসুবিধা হচ্ছে— এত পদ খালি রয়েছে, কিন্তু এই পদে আমি কাকে নিয়োগ দেব তা খুঁজে পাই না। কারণ, রাজনৈতিক দল না হওয়ায় আমরা লোকজন বেশি চিনি না।’ 

বিগত সরকারের আমলে নেয়া চলতি প্রকল্প থেকে দুষ্ট প্রকল্প বের করে আনতে নিয়ম-কানুন তৈরি করা হচ্ছে জানিয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘‌এবার পরিকল্পনা কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রকল্প প্রণয়নের একটি নীতিমালা তৈরি এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগকে (আইএমইডি) আরো শক্তিশালী করার। কীভাবে প্রকল্পগুলোর যাচাই-বাছাইকে একটি নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসা যায় সে চেষ্টা করছি। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের বলেছি চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে এতগুলো কীভাবে দুষ্ট প্রকল্প হয়ে গেল সেগুলো খুঁজে বের করতে। এগুলো যখন বেরিয়ে আসবে তখন কী নিয়ম-নীতি তৈরি করা যায় সেটা দেখব। নিয়ম তৈরি করতে পারলে হয়তো আগামী সরকারের জন্য একটি গাইড হবে। চাইলেও নিয়ম বদলাতে পারবে না।’

আলোচনায় উঠে এসেছে বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগ কমে যাওয়ার শঙ্কা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ। এসময় র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় বেশি বিনিয়োগ হলে সেখানেই সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ভবিষ্যৎ কৌশলে সেটাই ভাবতে হবে। অন্যান্যের মধ্যে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান, প্রথম আলো অনলাইনের প্রধান শওকত হোসেন মাসুম, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।