আরো নতুন ৩টি ধান আনলো ব্রি

আরো নতুন ৩টি ধান আনলো ব্রি
১৯ জুন, ২০২৫ ০১:২৬  
১৯ জুন, ২০২৫ ১১:৫৭  

লবণাক্ততা সহনশীল, উচ্চ ফলনশীল এবং ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী আরো তিনটি জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদশে ধান গবষেণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলোর মধ্যে ব্রি ধান১১২ লবণাক্ততা সহনশীল ও মাঝারি জীবনকালীন রোপা আমনের জাত। উচ্চ ফলনশীল ব্রি ধান১১৩ জাতটি বোরো মওসুমের জনপ্রিয় জাত ২৯ এর বিকল্প হিসেবে হেক্টরে  ১০.১ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এছাড়াও ব্রি ধান১১৪ বোরো মওসুমের দীর্ঘ জীবনকালীন ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জাত। নতুন উদ্ভাবিত এই তিনটি জাতসহ এখন পর্যন্ত ব্রি সর্বমোট ১২১টি জাত উদ্ভাবন করেছে যার ৮টি হাইব্রিড। 

জানাগেছে, কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান এর সভাপতিত্বে জাতীয় বীজ বোর্ডের (এনএসবি) ১১৪তম সভায় এই তিনটি ধানের জাতকে অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর ১৭ জুন কার্যপত্র প্রকশ করা হয়। সবশেষ ১৮ জুন বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় পেজে শেয়ার করে ব্রি রাইস মিউজিয়াম। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে নতুন বীজের অনুমোদন দেয়া এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে ব্রি’র মহাপরচিালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান ও বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো: জয়নাল আবেদীন, ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ সিস্টেম এর মহাপরিচালক  ড. মো. আব্দুল্লাহ ইউছুফ আখন্দ সহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও  প্রাইভেট সেক্টরের প্রতিনিধি, কৃষক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

ব্রি রাইস মিউজাম সূত্রে প্রকাশ,  চারা অবস্থায় ১২ ডিএস/মি. (৩ সপ্তাহ পর্যন্ত) লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে ব্রি ধান১১২। উপরন্তু এ জাত অংগজ বৃদ্ধি থেকে প্রজনন পর্যায় পর্যন্ত লবণাক্ততা সংবেদনশীল সব ধাপে ৮ ডিএস/মি. মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করে ফলন দিতে সক্ষম। এ জাতটির দানা মাঝারি চিকন ও শীষ থেকে ধান সহজে ঝরে পড়ে না। জাতটির জীবনকাল তুলনামূলক কম হওয়ায় উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলে ফসল কর্তনের পর মধ্যম উঁচু থেকে উঁচু জমিতে সূর্যমুখী ও লবণ সহনশীল সরিষা আবাদের সুযোগ তৈরি হবে।

ব্রি ধান১১৩ জাতটি মাঝারি চিকন দানার উচ্চ ফলনশীল জাত। এ জাতের ডিগ পাতা খাড়া, প্রশস্ত ও লম্বা এবং ধান পাকলেও সবুজ থকে। পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০২ থেকে ১০৫ সেন্টিমিটার। এ জাতের গাছ শক্ত এবং মজবুত বিধায় সহজে হেলে পড়ে না। জাতটির গড় জীবনকাল ১৪৩ দিন। ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন গড়ে ১৯ দশমিক ৪ গ্রাম। চালের আকার আকৃতি মাঝারি চিকন এবং রং সাদা, দেখতে অনেকটা নাইজারশাইলের মতো। এ ধানের চালে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৮ শতাংশ এবং ভাত ঝরঝরে। এছাড়া প্রোটিনের পরিমাণ ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রস্তাবিত জাতের ফলন পরীক্ষায় এ জাতটি ব্রি ধান৮৮ এর চেয়ে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি ফলন দিয়েছে। এ জাতের গড় ফলন হেক্টরে ৮ দশমিক ১৫ টন। উপযুক্ত পরিবেশে সঠিক ব্যবস্থাপনা করলে এ জাতটি হেক্টরে ১০ দশমিক ১ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। ফলে বোরো মওসুমের জনপ্রিয় জাত ২৯ এর বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে এই ধানটিকে।

ব্লাস্ট প্রতিরোধী বোরো মওসুমের দীর্ঘ মেয়াদি জাত ব্রি ধান১১৪। এ জাতের ডিগ পাতা খাড়া, প্রশস্ত ও লম্বা, গাছ মজবুত এবং হেলে পড়ে না। পাতার রং গাঢ় সবুজ। এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৭ দশমিক ৭৬ টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় এর ফলন হেক্টরে ১০ দশমিক ২৩ টন পর্যন্ত পাওয়া যায়। এ জাতের দানা মাঝারি মোটা এবং সোনালি বর্ণের। এ জাতের গড় জীবনকাল ১৪৯ দিন, যা বোরো মওসুমের জনপ্রিয় জাত ব্রি ধান৮৯ এর সমান জীবনকাল। ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন গড়ে ১৭ দশমিক ৪ গ্রাম। চালে অ্যামাইলোজের পরমিাণ ২৭ শতাংশ এবং প্রোটিনের পরমিাণ ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ভাত ঝরঝরে। জাতটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী। এ জাতটিতে ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী প্রকট জিন পিআই৯ বিদ্যমান এবং আর্টিফিসিয়াল ইনোকুলেশনে উচ্চ মাত্রার রোগ প্রতিরোধী (স্কোর-০) ক্ষমতার বলে পরীক্ষামূলক চাষে প্রমাণ মিলেছে।

১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে উচ্চফলনশীল ধানের জাত এবং ধান উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে ব্রি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল আধুনিক ধানের নিত্য নতুন জাত উদ্ভাবন করছে। তাদের কালিজিরা এবং কাটারিভোগ ধানের বাংলাদেশের ভৌগলিক নির্দেশক পন্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে।​ গত ৫০ বছরে ধান উৎপাদন তিনগুণের বেশি বেড়েছে।