ই-ওয়েস্ট প্রক্রিয়াকরণের সুবিধা সৃষ্টির মেয়াদ বাড়লো এক বছর
২০৩০ সালে ই-বর্জ্যের বার্ষিক পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১৬ লাখ টন। তবে দেশে এখনো ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ রিসাইকেলিং সিস্টেম গড়ে ওঠেনি। এই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে বাংলাদেশের প্রথম ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট নির্মাণ হচ্ছে। ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদী এই প্রকল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) সাভারে বাস্তবায়ন করছে আরো একটি প্রকল্প।
ই-ওয়েস্ট প্রক্রিয়াকরণের সুবিধাদি সৃষ্টি (২য় সংশোধিত) চলমান এই প্রকল্পের অধীনে ঢাকা ক্যাম্পাসে ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ গবেষণাগার স্থাপনে এবার এই প্রকলে।পর মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ২০২৫ সালে জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
কেননা বিসিএসআইআর ঢাকাতে ল্যাব মেরামত সংস্কারে তৃতীয় তলার ঊর্ধ্বমুখী সংস্কারের পর বর্তমানে গবেষণাগারে বেশ কিছু যন্ত্রপাতি স্থপন করা হলেও এলসি খুলে এখনো অন্যান্য বেশ কিছু যন্ত্রপাতি হাতে মেলেনি।
হালকা ও মাঝারি প্রকৌশল খাতের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় শতভাগ পৌঁছে দিতে চলমান লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরের উন্নয়ন ও ই-ওয়েস্ট প্রক্রিয়াকরণের সুবিধাদি সৃষ্টি (২য় সংশোধিত) প্রকল্পটি মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বৃহস্পতিবার (১৫ মে) নিশ্চিত করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের নিবিড় পরীবেক্ষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক অগ্রগতি এপ্রিল ২০২৪ পর্যন্ত ৬৫.৭ শতাংশ ছিলো। বাস্তব অগ্রগতি ছিলো ৬৭ শতাংশ। সংশোধিত প্রকল্প অর্থায়নে ব্যয় বেড়েছে ১৬.৬৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) সূত্রে প্রকাশ, দেশের হালকা ও মাঝারি প্রকৌশল খাতের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় গৌঁছে দিতে সংস্থাটির চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জয়পুর ক্যাম্পাসে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সাভারে চামড়া গবেষণা কেন্দ্র ও চলমান ‘ই-ম্যাটেরিয়ালস কেন্দ্র’ স্থাপনও প্রকল্পের আওতায় চলমান।
এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা ক্যাম্পাসে ই-ম্যাটেরিয়ালস কেন্দ্র এবং ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্পকারখানার মাধ্যমে উৎপাদিত কন্ট্রাকশন ম্যাটেরিয়াল (স্টিল, কনক্রিট, সিমেন্ট ইত্যাদি), লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরের উৎপাদিত পণ্য (স্পেয়ার পার্টস, ইত্যাদি) এবং ইলেকট্রিক্যাল ম্যাটেরিয়ালের (কেবলস, ইনস্যুলেটর ইত্যাদি) মানোন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি চলমান। বিশেষায়িত গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং যৌথ গবেষণাও প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন হচ্ছে।
চলমান প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৪৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। নতুন করে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
বিসিএসআইআর জানায়, লৌহজাত ঢালাই, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, প্রকৌশল যন্ত্র, পরিবাহী তার, মরিচাহীন ইস্পাত সামগ্রীও বিদেশে যাচ্ছে। এসব খাতে অনেক মানুষ জড়িত। তারা কীভাবে আরও উন্নয়ন করতে পারেন, কীভাবে তাদের আরও দক্ষ করে গড়ে তোলা যায় সে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এখন সম্ভাবনাময় খাত। সরকার চেষ্টা করছে এ খাতে আরও উন্নতি করার। সংশ্লিষ্টদের আরও সাপোর্ট দেওয়া হবে। এজন্যই প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ইতিহাস থেকে দেখা যায়, ম্যাটেরিয়ালস প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন সবসময়ই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানসম্পদ, সহজলভ্যতা এবং সুলভ পণ্য ও সেবার চাহিদা থেকেই মূলত শিল্পায়নের সূচনা হয়। শিল্পায়নের চালিকাশক্তি হলো উন্নত কাঁচামাল, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং সংশ্লিষ্ট সেবা, যা ম্যাটেরিয়াল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে বাংলাদেশের শিল্প এরই মধ্যে নিজস্ব উদ্যম আর প্রচেষ্টা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। এ অবস্থাকে এগিয়ে নিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।







