৩০০ কোটি টাকা পাওনা না দিতে ‘লবিস্ট নিয়োগ’ করেছে গ্রামীণ টেলিকম, ক্ষুব্ধ শ্রমিক

২১ আগষ্ট, ২০২১ ১১:৪৯  
লবিস্ট নিয়োগ করে বে-আইনি ভাবে ইউনিয়ন ধ্বংস ও শ্রমিক ঠকানোর চক্রান্ত করছে গ্রামীণ টেলিকম। শ্রমিক কল্যাণের পাওনা ৩০০ কোটি টাকার ১০৭টি মামলা থেকে বাঁচতে প্রায় ১৪ কোটি টাকা দিয়ে লবিস্ট ফার্মনিয়োগ দেয় কর্মীদের ন্যয়সঙ্গত অধিকার ক্ষুন্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। তারা বলছেন, সরকারের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী আর আমলাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে মামলা জিতিয়ে দেওয়ার চুক্তি সই করেছে গ্রামীণ কল্যাণ আর ঢাকা লজিষ্টক ফার্ম। আর, তা অনুমোদন করেছেন দরিদ্রকে মিউজিয়ামে পাঠানোর স্বপ্ন দেখিয়ে নোবেলজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনূস। ২১ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ)  সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান। সংবাদ সম্মেলনে লবিস্ট নিয়োগ করে পাওনা না দেয়া ও ট্রেড ইউনিয়ন ধ্বংসের চক্রান্ত করা হচ্ছে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন, ইউনিয়নের কার্যক্রম ঠেকাতে এরইমধ্যে গ্রামীণফোন ৩০ লাখ টাকা দিয়েছে আইনি প্রতিষ্ঠানকে। এরইমধ্যে তাদের আবেদন স্থগিত করে দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এবার তারা লবিস্ট নিয়োগ করছে। তিনি আরো জানান, গ্রামীণ ফোনের কাছ থেকেই প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার ওপরে ডিভিডেন্ট পায় গ্রামীণ টেলিকম। ২০১৯ সালেই তাদের ডিভিডেন্ট এসেছে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা। কিন্তু এই সব ডিভিডেন্টের পাঁচ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণকে দেওয়ার কথা থাকলেতা কোন দিনই দেয়নি গ্রামীণ টেলিকম। ২০০৬ সাল থেকে এই পাওনা জমতে জমতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০কোটি টাকা। ফলে ক্ষুব্ধ কর্মীরা বকেয়া পাওনা চেয়ে মামলা করেছে। রাজধানী ঢাকার শ্রম আদালতে সব মিলে ১০৭টি মামলা করা হয়েছে ড. মোম্মদ ইউনূসও গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে। আইনি লড়াইয়ে জিততে না পেরে গত ১৪ জুন এক ভার্চুয়াল সভায় এই মামলাগুলো জিততেই ঢাকা লজিস্টিক সার্ভিসেস এন্ড সলিউশনের সঙ্গে চুক্তির বিষয় অনুমোদন দেয় পরিচালনা পরিষদ। গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান এ্যাপোলোর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়ন বাংলাদেশ লিয়াজোঁ কাউন্সিলের সভাপতি মো. আমজাদ আলী খান,জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আমিরুল হক আমি, একতা শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, এবং বাংলালিংক ইমপ্লয়ার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোহাম্মাদ সোহাগ। বক্তব্যে এই ‘চক্রান্ত’ ঠেকাতে গ্রামীণ টেলিকমে প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে শ্রমিক সংগঠনকে দুর্বল করতে নেয়া ‘ষড়যন্ত্র’ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।