গ্রামীণ টেলিকম ভবন ‘জবর দখলের’ অভিযোগ
রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোডে অবস্থিত গ্রামীণ টেলিকম ভবনটি ‘জবর দখল’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গ্রামীণ ব্যাংকের লোকজন গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভবনটির আটটি অফিস দখল করে নিয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) গ্রামীণ টেলিকম ভবনের নিচতলায় প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তার সঙ্গে অন্যদের মধ্যে গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম, গ্রামীণ কল্যাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একে এম মঈনুদ্দিন চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ড. ইউনুস বলেন, ‘হঠাৎ কী হলো, বাইরের কিছু লোক এসে তা জবরদখল করছে। আমরা কোথায় যাবো, কী করবো?’
পুলিশের কাছে এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন এই নোবেল বিজয়ী। তিনি বলেন, ‘পুলিশের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি। কিন্তু তারা ঘুরে গিয়ে কোনেও অসুবিধা দেখছেন না বলে জানান! জবরদখলের পর আমরা নিজের বাড়িতে ঢুকতে গেলে, তারা আমাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করছে। নিজের অফিসে ঢুকতে পারবো কিনা, এটা এখন বাইরের লোকের এখতিয়ার হয়ে গেছে।’
জানা গেছে, ভবনটিতে ১৬টি কোম্পানির কার্যালয় আছে, যার প্রতিটিরই চেয়ারম্যান ড. ইউনূস।
‘ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে আছি’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এ ভবনটা আমরা করেছি, এটা আমাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। হঠাৎ চার দিন আগে বাইরের লোক এসে জবরদখল শুরু করে। আর আমরাই বাইরের লোক হয়ে গেলাম। আমাদের সব অফিসের প্রধান কার্যালয় এটি। দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য এখান থেকে কাজ করা হয়।’
গ্রামীণ কল্যাণের কর্মীরা জানান, আজ সকাল থেকে গ্রামীণ টেলিকম ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে কিছু লোক, সঙ্গে ঝাড়ু নিয়ে কিছু নারীও উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত কাউকে এমনকি ভবন পরিদর্শনে আসা কাউকেও ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। এর আগে গত কয়েক দিন, ২০ জনের একটি দল এই ভবন দখলের চেষ্টা চালিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে গতকাল বুধবার মোবাইলে কল করে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয়ে বেশ কয়েকজন ধমক ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ করেন গ্রামীণ কল্যাণের ভারপ্রাপ্ত বিভাগ (হিসাব ও অর্থ) প্রধান মো. ইউসুফ রেজা খান। পরে সন্ধ্যায় এ বিষয়ে একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করতে গেলে স্থানীয় শাহ আলী থানা সেটি গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।





