ব্রোঞ্জ পেরিয়ে এবার রৌপ্য জয় করে বিশ্বমঞ্চে সাইবার স্কোয়াড
বিশ্ব রোবট অলিম্পিয়াডে আফিয়ার হাত ধরে রৌপ্য
- বিশ্ব রোবট অলিম্পিয়াডে আফিয়া হুমায়রার নেতৃত্বে টানা দুই বছর ব্রোঞ্জ ও রৌপ্যপদক জয় করে বৈশ্বিক সাফল্য পেয়েছে দল ‘সাইবার স্কোয়াড’
- ২০২৪ সালে তুরস্কে ব্রোঞ্জ এবং ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ফাইনালে বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশের সঙ্গে লড়ে রৌপ্য অর্জন করে দলটি
- আন্তর্জাতিক সাফল্যের পাশাপাশি নতুন শিক্ষার্থীদের রোবোটিক্স প্রকৌশল ও প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে তরুণদের দিকনির্দেশ
ঢাকা: রোবোটিক্স প্রকৌশল, প্রোগ্রামিং অ্যালগরিদম ও হার্ডওয়্যার উদ্ভাবনের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের তরুণ শিক্ষার্থী আফিয়া হুমায়রা। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। তরুণ এই প্রযুক্তিবিদের দলগত নেতৃত্বে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে ব্রোঞ্জের পর এবার রৌপ্যপদক অর্জন করেছে বাংলাদেশি রোবোটিক্স দল ‘সাইবার স্কোয়াড’।
দলনেতা হিসেবে আফিয়া টানা দুই বছর বিশ্ব রোবট অলিম্পিয়াডে (WRO) আন্তর্জাতিক সাফল্য ছিনিয়ে আনেন। ২০২৪ সালে তুরস্কের ইজমিরে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ৮৭টি দেশের ৫৬০টি দলের সাথে অংশ নিয়ে ‘ফিউচার ইনোভেটরস’ ক্যাটাগরিতে ব্রোঞ্জপদক লাভ করে সাইবার স্কোয়াড। ওই আসরে সাদিয়া আনজুম পুষ্পার দল ‘চেঞ্জ মেকার্স ২০২৪’ ব্রোঞ্জ অর্জন করে। উভয় দলের নেতৃত্বে নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৈশ্বিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় দেশের তরুণীদের নেতৃত্বের বড় প্রমাণ দেয়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জুনিয়র গ্রুপে গোল্ড পদক জয় করে দলটি। এর মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে পুনরায় দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ তৈরি হয়। ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর বুধবার থেকে ২৮ নভেম্বর শুক্রবার পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে স্যান্ডস এক্সপো সেন্টারে ১০০টিরও বেশি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ফাইনালে অংশ নেয় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৯টি দল। সেখানে আফিয়া হুমায়রার সাইবার স্কোয়াড জুনিয়র গ্রুপে নবম স্থান নিশ্চিত করে মর্যাদাপূর্ণ রৌপ্যপদক লাভ করে।
সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করে আফিয়া হুমায়রা জানান, মহান সৃষ্টিকর্তার রহমত, পরিবারের অনুপ্রেরণা ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা এই অর্জন সহজ করেছে। তিনি আরও বলেন, দেশের অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি তরুণ উদ্ভাবকদের কারিগরি ও গবেষণামুখী উদ্যোগে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়, তবে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অঙ্গনে বাংলাদেশ আরও দৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
প্রতিযোগিতার বাইরেও আফিয়া খুদে শিক্ষার্থীদের রোবোটিক্সের মৌলিক ইলেকট্রনিক্স ও প্রোগ্রামিং শেখাতে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। সম্প্রতি ক্র্যাব (CRAB) ও উইংস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘রোবোজেনেসিস: ইগনাইটিং দ্য ফিউচার অব রোবোটিক্স’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং মেশিন ভিশনের বৈশ্বিক অগ্রগতির এই সময়ে তার এই নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ভবিষ্যত রোবোটিক্স প্রকৌশলের বিকাশকে আরও গতিশীল করবে।
//ডিবিটেক/এসবিএন/এসএমই/এমআইএসটি//





