সাইবার প্রতারণা ও স্বাক্ষর জালিয়াতি ঠেকাতে কাজ শুরু করেছে বিটিআরসি

এমপিদের নম্বর হ্যাক ও ভয়েস ক্লোন: সংসদে উদ্বেগ

  • সংসদ সদস্যদের মোবাইল নম্বর হ্যাকিং, ভয়েস ক্লোন ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অর্থ দাবির তথ্য সংসদে তুলে ধরেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি
  • ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার তাগিদ দিলে বিটিআরসির প্রতিরোধমূলক কারিগরি কার্যক্রম শুরুর কথা জানানো হয়
  • অধিবেশন কক্ষে উপস্থিতি ও প্রবেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারে লবিতে স্থাপিত ফেস রিডিং ডিভাইসের বাধ্যতামূলক ব্যবহারের

এমপিদের নম্বর হ্যাক ও ভয়েস ক্লোন: সংসদে উদ্বেগ
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪১  

ঢাকা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে তৈরি ভয়েস ক্লোন প্রযুক্তি, মোবাইল নম্বর হ্যাকিং এবং মেসেজিং অ্যাপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংসদ সদস্যদের পরিচয়ে ডিজিটাল প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। জাতীয় সংসদে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে সংসদ সদস্যদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তিগত সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের অনির্ধারিত আলোচনায় এ উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

চিফ হুইপ জানান, ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার তিনজন সংসদ সদস্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান যে তাদের ব্যক্তিগত নম্বর ব্যবহার করে জরুরি প্রয়োজনে ৫০ হাজার, ৩০ হাজার ও ২৫ হাজার টাকা পাঠানোর অনুরোধ সংবলিত বার্তা ও কল পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় নম্বরগুলোর নিয়ন্ত্রণ সাইবার অপরাধীদের হাতে চলে গেছে বলে প্রতীয়মান হয়।

প্রযুক্তিগত অপরাধের বিস্তৃতি তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, শুধু নম্বর বা সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম হ্যাকিং নয়, জেনারেটিভ এআই ভিত্তিক ভয়েস ক্লোনিং এবং উচ্চপ্রযুক্তিতে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া ডিজিটাল নথি তৈরির ঘটনাও ঘটছে। সরকারি ও বিরোধী দল উভয় পক্ষের সদস্যরাই এ ধরনের সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই প্রতারণা চক্রের অপতৎপরতা সম্পর্কে নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, মোবাইল হ্যাকিং বা ভয়েস ক্লোনিংয়ের মতো উন্নত সাইবার অপরাধে ভুক্তভোগীকে এককভাবে দায়ী করা যায় না; বরং সাইবার স্পেস সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নির্বাহী বিভাগের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।

এর জবাবে চিফ হুইপ জানান, ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান ও প্রযুক্তিগত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ শুরু করেছে।

এদিকে সংসদ চত্বরের বায়োমেট্রিক নজরদারি ও উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে ফেস রিডিং ডিভাইসের বাধ্যতামূলক ব্যবহারের নির্দেশনা দেন চিফ হুইপ। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদের সব লবিতে আধুনিক ফেস রিকগনিশন সেন্সর স্থাপন করা হলেও অনেক সদস্য এটি ব্যবহার করছেন না। নিরাপত্তা প্রটোকল কঠোর করতে কক্ষে প্রবেশ এবং অধিবেশন শেষে ভবন ত্যাগ করার সময় সদস্যদের ফেসিয়াল রিকগনিশন ডিভাইস ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।
//ডিবিটেক/ এসএনএফ/এনএপি/এমআইএসটি//