ইউনিয়নভিত্তিক চাহিদা ম্যাপ, কৃষক কার্ড ও রিয়েল-টাইম নজরদারির দাবি
সার ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল ম্যাপিং-ট্র্যাকিংয়ের প্রস্তাব
- সার ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল সমাধান চান সংসদ সদস্যরা
- ডিজিটাল চাহিদা ম্যাপ, মজুদ ড্যাশবোর্ড ও পরিবহন ট্র্যাকিংয়ের প্রস্তাব
- সরকার বলছে, চাহিদার তুলনায় ১৫ দশমিক ৮৪ লাখ টন সার বেশি আছে
দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকার দাবি থাকলেও কৃষকের হাতে সময়মতো সার পৌঁছানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জাতীয় সংসদে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিয়নভিত্তিক ‘ডিজিটাল ফার্টিলাইজার ডিমান্ড ম্যাপ’, জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে মজুদের তথ্যসমৃদ্ধ মোবাইল অ্যাপ ও ড্যাশবোর্ড, কৃষকের ডিজিটাল কার্ড, সার পরিবহনে ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং রিয়েল-টাইম ডিজিটাল মনিটরিং চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনায় এসব প্রস্তাব আসে। আলোচনায় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা সার মজুদের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা, বিতরণ, ডিলার সিন্ডিকেট, কালোবাজারি ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে এবং নতুন ডিলার নিয়োগ, জেলা পর্যায়ে মনিটরিং ও অতিরিক্ত মজুদের মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রাম থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, ২০২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকলেও তিনি উলিপুরে কৃষকদের কাছ থেকে সার না পাওয়ার অভিযোগ শুনেছেন। নাগেশ্বরীতে কৃষকেরা একটি গুদাম লুট করেছেন এবং রৌমারীতে অসন্তোষ হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পুঠিয়ায় এক কৃষক বলেছেন, ‘হয় আমাকে সার দাও, না হলে বিষ দাও।’ লালমনিরহাট, সাতক্ষীরা ও সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায়ও অসন্তোষ রয়েছে বলে জানান তিনি।
সালেহী প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সার যদি মজুদ থাকে, তাহলে কৃষকদের এই হাহাকার কেন? এখানে কি কোনও ফেইলর আছে? হ্যাঁ, অবশ্যই ফেইলর আছে। অবশ্যই এই ফেইলরটা হলো সরকারের।’
তার মতে, সার ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, সরবরাহ এবং কালোবাজারি বন্ধে সরকারের ব্যর্থতা রয়েছে। ডিলার সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষকের কাছে সময়মতো সার পৌঁছানোও নিশ্চিত করা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, কোনও কৃষককে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সার দেওয়ার কথা বলে ৩০ থেকে ৪০ দিন পর দেওয়া হলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। আবার কৃষককে ৩০০, ৪০০ বা ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনতে হলে উৎপাদন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি—দুটোই বাড়বে।
রাজশাহীর উদাহরণ দিয়ে সালেহী বলেন, সেপ্টেম্বরে সেখানে টিএসপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৪৫ টন। অথচ সেখানে প্রায় চার লাখ কৃষক এবং প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর পুকুর ও মাছ চাষের এলাকা রয়েছে। কৃষির প্রকৃত চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ইউনিয়নভিত্তিক সার চাহিদা নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
সার সংকট মোকাবিলায় ইউনিয়নভিত্তিক ‘ডিজিটাল ফার্টিলাইজার ডিমান্ড ম্যাপ’ চালুর প্রস্তাব দেন সালেহী। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, এই ব্যবস্থায় এলাকাভিত্তিক কৃষি ও ফসলের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সারের প্রয়োজন নির্ধারণ করা যাবে। পাশাপাশি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সারের মজুদের তথ্য দেখানোর জন্য মোবাইল অ্যাপ ও ড্যাশবোর্ড, কৃষকের ডিজিটাল কার্ড এবং সার পরিবহনে ডিজিটাল ট্র্যাকিং চালুর কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের সাতটি সার কারখানার পাঁচ-ছয়টি গ্যাস সংকটে বন্ধ থাকায় উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় উৎপাদন অনেক কম হচ্ছে। আমদানিনির্ভরতা কমাতে বন্ধ কারখানাগুলো আধুনিকায়ন, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং রাশিয়া, চীন ও মিসরসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রস্তাব দেন তিনি।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ‘আমাদের সার সংকট মূলত মজুদের সমস্যা না, ব্যবস্থাপনার সমস্যা, দুর্নীতির সমস্যা, হরিলুটের অপচেষ্টার সমস্যা। সরকার সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।’
তার অভিযোগ, সার কারখানাগুলো বন্ধ রেখে বেশি দামে জনগণের টাকায় সার কেনা হচ্ছে। সরকার মজুদ থাকার কথা বললেও সেই সার কৃষকের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। সার সংকটকে একটি কায়েমি স্বার্থবাদী মহল লুটপাটের সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নতুন ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রেও লাখ লাখ টাকা লেনদেন হলে ভবিষ্যতে কৃষক সার না পেলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন নাজিবুর রহমান। মিয়ানমারে সার পাচারের অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে সরকারকে সংসদ ও জনগণকে জানাতেও বলেন তিনি।
১৯৯৫ সালের সার সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই বছরের ১৫ মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর গুলি চালিয়ে ১৮ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। এটিকে দেশের ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সার সংকট মোকাবিলায় রিয়েল-টাইম ডিজিটাল মনিটরিং, কেন্দ্রীয় গুদাম থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল ট্র্যাকিং, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের তথ্য সমন্বয় এবং অঞ্চল ও ফসলভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দের প্রস্তাব দেন নাজিবুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘কৃষককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সার নেই—এই অজুহাতে কৃষককে ৫০০-৮০০ টাকা বেশি দিয়ে কালোবাজার থেকে সার কিনতে বাধ্য করা কোনো সমাধান নয়।’
পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, দেশে সার নেই—এটি মূল বিতর্ক নয়। মূল প্রশ্ন হলো, সার থাকার পরও এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও বিতরণ হচ্ছে কি না।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী আমাদেরকে সারে দিয়েছেন, সুবিধা হতো উনার কাছে যদি একটা ক্যালকুলেটর থাকতো, তাহলে সঠিক পরিসংখ্যানটা আমাদের সামনে তুলে ধরতে পারতেন।’
তিনি বলেন, ‘উইদাউট প্রপার ম্যানেজমেন্ট দেয়ার ইজ নাথিং’—সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে মজুদ থাকলেও তা কার্যকর হয় না।
মাসুদ বলেন, জয়পুরহাটে ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৩০০-৪০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোথাও এই অতিরিক্ত দাম ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। তার এলাকায় ডিলার নিয়োগে ১০-১২ লাখ টাকা নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।
‘শস্যের মধ্যে ভূত রেখে আপনি কি সার সংকটের সমাধান করবেন?’—কুড়িগ্রামে গুদাম ভেঙে কৃষকদের সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে কৃষকদের গুদাম ভাঙার প্রয়োজন হতো না। সীমান্ত এলাকায় সার পাচারের অভিযোগ তুলে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং ডিলার পর্যায়ে কঠোর নজরদারির দাবি জানান তিনি।
জবাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আগের সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া অনেক সার ডিলার এখনও দায়িত্বে রয়েছেন। অনেকে পলাতক থাকায় প্রায় ৩ হাজার ৭৫৯টি ডিলার পয়েন্ট শূন্য রয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নতুন ডিলার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে এবং আবেদন করার শেষ সময় আগামীকাল। এতে প্রায় ৪ হাজার ৯১৮ জন নতুন ডিলার নিয়োগ পাবেন। নতুন ডিলাররা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে আরও দুজন করে খুচরা বিক্রেতা নিয়োগ করতে পারবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পুরোনো ডিলারদের একটি অংশ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। ২৯ আগস্ট থেকে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত ঘটনায় ২০৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং প্রায় ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে সার তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় ভারত ও মিয়ানমারে পাচারের প্রবণতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ধরনের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেফতার করে সার জব্দ করা হয়েছে।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও রৌমারীর ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদনে কৃষকদের উসকানি দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। কোথাও সড়ক অবরোধ ও আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পরে অন্য ডিলারের কাছ থেকে অতিরিক্ত সার এনে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
সংসদ সদস্যদের সার বিতরণ কমিটির উপদেষ্টা করার প্রস্তাবের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সার বিতরণের দায়িত্ব সংসদ সদস্যরা—আমার মনে হয় নিতে চান না। আমরা, ট্রেজারি বেঞ্চের যারা আছি, আমরা কেউই সার বিতরণের দায়িত্ব নিতে চাই না। ডিলাররা করবে।’
তিনি বলেন, কৃষকেরা আগাম সার কিনছেন—এটিও প্রমাণ করে যে সার পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি জেলায় কৃষি বিভাগ ও সরকার অতিরিক্ত সার মজুদের ব্যবস্থা করেছে।
শিল্প প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন সার উৎপাদন ও আমদানি করে। উৎপাদিত ও আমদানি করা সার কারখানা ও বাফার গুদামে মজুদ রাখা হয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়।
তিনি জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সার উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯ মেট্রিক টন। আমদানি করা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৮৯৯ মেট্রিক টন। বিতরণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন। বর্তমানে প্রায় ৪ লাখ ৪ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন সার মজুদ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন সাতটি সার কারখানার মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া, একটি টিএসপি ও একটি ডিএপি কারখানা রয়েছে। ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার ও সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার উৎপাদনে রয়েছে। চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর স্টার্টআপ প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলেও জানান শিল্প প্রতিমন্ত্রী।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নতুন সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে আগাম দুর্নীতির অভিযোগের সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘আপনার আবেদনের তারিখই শেষ হয় নাই। আবেদন হোক। দুর্নীতি কোথায় পান? আবেদন জমা দেন, কে পেল, না পেল, তারপরে বলেন।’
টুকু বলেন, ৬৪টি জেলায় ৬৪টি মনিটরিং সেল করা হয়েছে। দুইজন যুগ্ম সচিব ও দুইজন উপসচিবের তত্ত্বাবধানে এসব সেলের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোথাও অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনিয়মের অভিযোগে কয়েকজন ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সারের চাহিদা ও সরবরাহের হিসাব তুলে ধরে টুকু বলেন, ‘আমাদের চাহিদা ৩৫ দশমিক ৮৭ লাখ মেট্রিক টন। আমাদের যোগান আছে ৫১ দশমিক ৭১ লাখ মেট্রিক টন। আর এই ক্ষেত্রে আমাদের সারপ্লাস থাকবে ১৫ দশমিক ৮৪ লাখ মেট্রিক টন।’
কৃষক কার্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কৃষককে সম্মানিত করার পাশাপাশি জমির পরিমাণ অনুযায়ী সারের প্রয়োজন নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এতে সারের অপচয়ও কমবে এবং ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।
নতুন ডিলার নিয়োগ প্রসঙ্গে টুকু বলেন, ‘প্রায় ৮ হাজার ডিলার নিয়োগ হবে। এরাও আবার দুইজন করে ডিলার নিয়োগ দিতে পারবে। তাহলে ১৬ হাজার ডিলার নিয়োগ হবে। এর আগেও যারা বিদ্যমান আছে, প্রায় ৩১ হাজারের উপরে।’
সার নিয়ে সমালোচনার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পবিত্র সংসদে সঠিক তথ্য, বাস্তবভিত্তিক কথা বললে সবাই উপকৃত হবে, দেশবাসী উপকৃত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাবোটাজ না করে জনগণের পক্ষে কীভাবে কাজ করা যায়, সেই অনুযায়ী চলেন। জনগণই এর জবাব দিবে, ইনশাল্লাহ।’
সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদে হওয়া আলোচনায় তাই মজুদের পরিমাণের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিতরণ ব্যবস্থা, চাহিদার ডিজিটাল পূর্বাভাস, মজুদের স্বচ্ছ তথ্য, পরিবহনের গতিপথ পর্যবেক্ষণ এবং কৃষকের জমিভিত্তিক সারের প্রয়োজন নির্ধারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের কাছে সময়মতো সার পৌঁছানো সহজ হতে পারে—এটাই আলোচনার অন্যতম প্রযুক্তিনির্ভর দিক।
//ডিবিটেক/ এসএইচএ/ এনএপি/এমআইএস/এফওইটি//





