সমস্যা সমাধান ও কৃষি উদ্ভাবনে ‘আইডিয়া টু ইমপ্যাক্ট’ সেশন অনুষ্ঠিত

খুকৃবিতে উদ্ভাবন ও কৃষিপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা কর্মশালা

  • প্রচলিত শিক্ষার বাইরে মাঠপর্যায়ের প্রযুক্তিগত সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও বাণিজ্যিক মডেল তৈরির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন এগ্রিটেক বিশেষজ্ঞ ও আলোচকরা
  • আশি জনের বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে কর্মশালাটিতে প্রাথমিক ধারণাকে আধুনিক টেকসই উদ্যোগে রূপান্তরের কৌশলগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়

খুকৃবিতে উদ্ভাবন ও কৃষিপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা কর্মশালা
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২৭  

আধুনিক কৃষিপ্রকৌশল ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে তরুণদের মাঝে টেকসই উদ্যোক্তা সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্যে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুকৃবি) ‘আইডিয়া টু ইমপ্যাক্ট’ শীর্ষক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ অধিবেশন পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশ এগ্রিকালচার অলিম্পিয়াড, ক্যাম্পাস কানেক্টেড এবং দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের আশি জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন সাউথ এশিয়ান এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড ইকোলজিক্যাল কাউন্সিল (SAEEC) ও ক্যাম্পাস কানেক্টেডের আহ্বায়ক মো. সজল আহমেদ।

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াডের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এবং ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাব প্রোগ্রামের মেন্টর মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, এনিমেলিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিএমও রাকিব হাসান মুবিন এবং মিটব্রোসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আরমান হাবিব। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের জেলা প্রতিনিধি মহরম হাসান মাহিমসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আলোচনায় মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, কৃষি ও বায়োটেক শিক্ষার্থীদের কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; মেকানিক্যাল ও জৈবপ্রযুক্তিগত ধারণাকে ব্যবহারিক সমস্যা সমাধানে প্রয়োগ করতে হবে। একটি প্রযুক্তিগত ধারণা তখনই সফল হয়, যখন তা প্রান্তিক মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। তিনি আধুনিক এগ্রি-ইনোভেশনের মাধ্যমে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার তাগিদ দেন।

রাকিব হাসান মুবিন উল্লেখ করেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি ও স্টার্টআপের যুগে বড় মূলধনের চেয়ে মাঠপর্যায়ের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করার সক্ষমতা বেশি জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই প্রাথমিক ধারণাকে বৃহৎ ভেঞ্চারে রূপ দেওয়া সম্ভব। মোহাম্মদ আরমান হাবিব বলেন, ভোক্তা ও কৃষকের বাস্তব চাহিদা প্রযুক্তিগত কাঠামোর মাধ্যমে মেটাতে পারলেই একটি উদ্যোগ সফল হয়। সঠিক পণ্য উন্নয়ন ও ডেটাভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ধারণাকে স্কেলে রূপান্তরের পরামর্শ দেন তিনি।

মো. সজল আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের মাঝে ইনকিউবেশন ও ইনোভেশন চর্চা বাড়ানো আবশ্যক। কর্মশালায় প্রাথমিক ধারণার নকশা প্রণয়ন, কারিগরি প্রোটোটাইপিং ও বাণিজ্যিক উদ্যোগ চালুর ধাপে ধাপে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। উদ্যোক্তা সংস্কৃতি অব্যাহত রাখতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তি ও উদ্যোগমুখী কর্মশালা অব্যাহত থাকবে বলে জানান আয়োজকরা।
//ডিবিটেক/আরএইচএম/এমআইএস/এসএমই//