প্যারিসে ইউনেস্কোর সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী: শিক্ষায় এআই ও মাতৃভাষা নিশ্চয়তার ডাক

প্যারিসে ইউনেস্কোর সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী: শিক্ষায় এআই ও মাতৃভাষা নিশ্চয়তার ডাক
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৭  

প্যারিস/ঢাকা: দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে সময়োপযোগী দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করতে শিক্ষাব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর প্রয়োগের বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বুধবার ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে চলমান 'ডিজিটাল লার্নিং উইক ২০২৬'-এর প্ল্যানারি সেশনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। 'Teachers at the center: Agency, competencies and the teacher-student relationship' শীর্ষক ওই সেশনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউনেস্কোর টিচার ডেভেলপমেন্ট সেকশনের প্রধান কার্লোস ভার্গাস।

​শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে শিক্ষাঙ্গনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। শ্রেণিকক্ষে এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের জন্য শিক্ষকদের দক্ষ করে তোলা জরুরি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার 'ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব' এবং 'মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম' সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে। এসব প্রযুক্তিগত কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা এবং বাংলা ও ইংরেজির বাইরে একটি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দেন তিনি।

​প্যারিসে মন্ত্রীর সফরসঙ্গী সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইউনেস্কোর ডিরেক্টর জেনারেল খালেদ এল-এনানি। উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের ডিজিটাল ও উদীয়মান প্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ দূত অমনদীপ সিং গিল।

​মন্ত্রী পর্যায়ের “Age Appropriateness and AI in Education” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের খসড়া “জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতিমালা ২০২৬-২০৩০”-এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উপস্থাপন করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনিয়ন্ত্রিত জেনারেটিভ এআই শিশুদের মানসিক বিকাশ ও চিন্তাশক্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ শিক্ষকদের জন্য একটি বিশেষায়িত এআই প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল প্রণয়ন করেছে।

​আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তিনি জোরালোভাবে তুলে ধরেন যে, বৈশ্বিক এআই প্ল্যাটফর্মগুলো প্রায়শই বাংলাভাষী শিক্ষার্থীদের প্রেক্ষাপট ও জাতীয় দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রমের চাহিদা মেটাতে পারে না। তাই প্রতিটি শিশু যেন মাতৃভাষায় এআই ব্যবহার করতে পারে, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুদের ডেটা সুরক্ষা ও গোপনীয়তা রক্ষায় বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগ নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁর এই বাস্তবমুখী বক্তব্য উপস্থিত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে।

​সম্মেলনের অংশ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ইউনেস্কো সদর দপ্তরে “বিয়ন্ড দ্য পাইলট: ইনসাইটস ফ্রম এআই ইন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং অ্যাট স্কেল” শীর্ষক পার্শ্ব-অধিবেশনে অংশ নেন এবং বিভিন্ন দেশের শিক্ষামন্ত্রীদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

প্রসঙ্গত, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষা: ফ্যাক্টস, ফ্রিকশনস, ফ্রন্টিয়ার্স” প্রতিপাদ্যে ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের ২৫টি দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিসহ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরা অংশ নিচ্ছেন।

​//ডিবিটেক/এএমপিআর/এসেমই/এফওইটি//