আইন অনুযায়ী যোগ্যরা নির্বাচন করতে পারবেন: আ. লীগ প্রার্থীদের প্রসঙ্গে সিইসি

ঢাকা: স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না, সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা অংশ নিলে আপনাদের কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে কিনা—এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দীন বলেছেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আইন অনুযায়ী যারা যোগ্য হবেন, তারা নির্বাচন করতে পারবেন। আইনে যাদের বাধা আছে, তারা পারবেন না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বুধবার […] The post আইন অনুযায়ী যোগ্যরা নির্বাচন করতে পারবেন: আ. লীগ প্রার্থীদের প্রসঙ্গে সিইসি first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | En

আইন অনুযায়ী যোগ্যরা নির্বাচন করতে পারবেন: আ. লীগ প্রার্থীদের প্রসঙ্গে সিইসি
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:০০  

ঢাকা: স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না, সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা অংশ নিলে আপনাদের কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে কিনা—এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দীন বলেছেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আইন অনুযায়ী যারা যোগ্য হবেন, তারা নির্বাচন করতে পারবেন। আইনে যাদের বাধা আছে, তারা পারবেন না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার পর রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে ‘পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, কিন্তু আগে প্রশিক্ষণ নেননি, এবার তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আইজিপি দুই সপ্তাহের মধ্যে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের দায়িত্বটা শুরু করেছেন। আজকে এটার উদ্বোধন অনুষ্ঠান। যারা কমান্ড করেন, পরিচালনা করেন, ফিল্ডে যারা নেতৃত্ব দেন—সবধরনের আমাদের এডিশনাল আইজিপি, ডিআইজি, কমিশনারস, মেট্রোপলিটন কমিশনারস, এসপি, এডিশনাল ডিআইজি—সবাই উপস্থিত ছিলেন আজকে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে সবাইকে একসঙ্গে পেয়েছি।’

সিইসি বলেন, ‘আমরা ১৩তম ন্যাশনাল ইলেকশনে জেলাগুলোতে যেমন সুন্দরভাবে কাজ করেছি, একইভাবে যাতে আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনটা করতে পারি, ফ্রি, ফেয়ার এবং অ্যাকসেপ্টেবল নির্বাচন করতে পারি—সেই বিষয় গুরুত্ব দিয়েছি। আমাদের যেমন সাংবিধানিক দায়িত্ব আছে সুন্দর একটি নির্বাচন করার, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা বা আইনি দায়িত্ব আছে—আমি আজকে যেটা বোঝাতে চেয়েছি যে এটা উনাদেরও সাংবিধানিক এবং আইনি দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো রকমের কোনো বেআইনি নির্দেশনা ইলেকশনের সময়ে যাবে না, একদম গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি। আমরা কোনো বেআইনি নির্দেশনা আমাদের থেকে দেব না। উনারা ওয়াদা করেছেন যে উনারা কাজ করবেন একটা সুন্দর ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন করার জন্য। অতীতে যেমন করেছেন, উনারা প্রমাণ করেছেন। আমি উনাদেরকে বোঝাতে চেয়েছি যে প্রত্যেক কিছুর মাপকাঠি হচ্ছে ‘ইউ হ্যাভ টু জাজ এভরিথিং বাই দ্য রেজাল্ট’। আমি কী কাজ করলাম সেটা যেমন ইম্পর্টেন্ট, কাজ করার নিয়মটা যেমন ইম্পর্টেন্ট, বেটার করলাম, খারাপ করলাম কি ভালো করলাম—এটা প্রমাণ হবে আমার রেজাল্টের মাধ্যমে। আমরা ১৩তম জাতীয় নির্বাচনে প্রমাণ করেছি, রেজাল্টের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি যে আমরা পারি। এই ইলেকশন কমিশনের ওপর মানুষের যে আস্থা ছিল, সে আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সিভিল সার্ভিস থেকে শুরু করে পুলিশ সার্ভিস, সব ল এনফোর্সমেন্টের ওপর মানুষের যে আস্থার সংকট হয়েছিল, সেটা পুনরুদ্ধার হয়েছে। সব ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিস এবং ইলেকশন কমিশন এবং আমাদের প্রশাসন—এরা প্রমাণ করেছে যে এরা একটা ভেরি ফ্রি ইলেকশন দিতে পারে। তারা এটা করতে পারে—সেটা তারা প্রমাণ দিয়েছে। এখন একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনটা যাতে উনারা করতে পারেন, একই গুণাগুণসম্পন্ন করতে পারেন—সে চেষ্টা তারা করবেন, তারা আমার কাছে ওয়াদা করেছেন।’

এ ছাড়াও তিনি বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে আমাদের বিজিবি, আনসার উনারাও ট্রেনিং শুরু করবেন। সবাই মিলে ইনশাআল্লাহ আমরা একটা সুন্দর স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দিতে পারব। এটাই আমি প্রত্যাশা করছি এবং আমি কিন্তু কনফিডেন্ট। আমাদের কমিটমেন্টের জায়গায় কোনো ঘাটতি নেই।’

‘নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন, স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে তো প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হয়, সহিংসতাও বাড়ে, এই প্রেক্ষিতে কি আপনারা কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছেন?’—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘১৩তম জাতীয় নির্বাচনে যে অবস্থা ছিল, এখন সেটা পরিবর্তন হয়েছে। আমার পুলিশের ওপর আস্থা আছে। উনারা দে হ্যাভ সাবমিটেড দেয়ার কমিটমেন্ট। তারা তো প্রমাণ করে ছেড়ে দিয়েছে। এখন ডিজিটাল মনিটরিং, অনলাইন মনিটরিং থাকবে। রিয়েল টাইম মনিটরিং আমরা করব, যাতে আমরা ইমিডিয়েটলি ইন্টারভেন করতে পারি।’

তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে, এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তফসিল যখন টাইম হবে তখন আমরা বলব। তবে এ মাসেই… এই মাসে না, আগামী মাসেও হতে পারে। তবে আমরা ধাপে ধাপে করব, একসঙ্গে না। আমরা সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছি। যখন সিদ্ধান্ত হবে, তখন জানানো হবে।’

স্থানীয় নির্বাচনের প্রধান চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে নাসির উদ্দীন বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনেক প্রার্থী থাকে। একই পরিবারের মধ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। গ্রামগঞ্জে যাতে কোনো মারামারি বা সহিংসতা না হয়, সেটার জন্য আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেব।’

এ সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘দলীয় সরকার হলেও এটি একটি গণতান্ত্রিক সরকার। অতএব একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন করার জন্য পজিটিভ যত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, সেগুলা সবই আমরা নেব নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী।’

The post আইন অনুযায়ী যোগ্যরা নির্বাচন করতে পারবেন: আ. লীগ প্রার্থীদের প্রসঙ্গে সিইসি first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.