দুই হাজার আইফোন ও ছয়শত ল্যাপটপ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

কক্সবাজারে সাইবার প্রতারণা সরঞ্জামসহ ছয় চীনা গ্রেফতার

  • কক্সবাজারের আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে দুই হাজার আইফোন, ছয় শতাধিক ল্যাপটপ ও বিশেষ যোগাযোগ প্রযুক্তি সরঞ্জামসহ ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ 
  • হোটেল ভাড়া নিয়ে ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও ডিভাইস ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পরিসরে অনলাইন জালিয়াতির বড় চক্র পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
  • বিদেশি নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত প্রযুক্তির অনুরূপ সরঞ্জাম খতিয়ে দেখে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়েরের পর আসামিদের কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

কক্সবাজারে সাইবার প্রতারণা সরঞ্জামসহ ছয় চীনা গ্রেফতার
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:০২  

আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সরঞ্জাম ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ সাইবার জালিয়াতি চক্র পরিচালনার অভিযোগে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেল থেকে ছয়জন চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২ হাজার আইফোন, ৬ শতাধিক ল্যাপটপ এবং বিশেষ এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ প্রযুক্তি সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে ৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল পর্যন্ত শহরের কলাতলীর হোটেল সি-প্যালেসে এই বিশেষ কারিগরি অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রামু থানায় দায়ের হওয়া একটি সাইবার অভিযোগ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের দেওয়া ডিজিটাল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথভাবে এ ট্র্যাকিং ও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারকৃত প্রযুক্তিপণ্যের বিপুল মজুত মূলত নেটওয়ার্ক বেইজড অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনার সার্ভার ও এন্ডপয়েন্ট ডিভাইস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

অভিযানের কারিগরি ও অনুসন্ধান বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, ‘অভিযানে উদ্ধার হওয়া আইফোন ও ল্যাপটপ ছাড়াও বিদেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত যোগাযোগ সরঞ্জামের অনুরূপ কিছু যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে। এসব আলামত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ সাইবার ফরেনসিক দল উদ্ধার হওয়া এসব ট্রান্সিভার ও টেলিকম গিয়ারের সিগন্যাল ফ্রিকোয়েন্সি পরীক্ষা করছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে শতাধিক চীনা ও তাইওয়ানি নাগরিক কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ এলাকার দুটি হোটেল ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিলেন। উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ও লোকাল নেটওয়ার্ক ক্লাউড অবকাঠামো গড়ে তুলে সেখান থেকে সংঘবদ্ধভাবে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ডিজিটাল ডিভাইসগুলো দিয়ে ফিশিং, ফিনটেক জালিয়াতি বা আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো প্রতারণা চালানো হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আইটি অডিট চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক ছয়জনের বিরুদ্ধে রামু থানায় সাইবার আইনে মামলা দায়েরের পর ৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
//ডিবিটেক/এসএমই/এমআইএস/এসএমই//