আইম্যাক্স ও আইম্যাক্স ৭০ মিমি ফরম্যাটের পার্থক্য কোথায়?

আইম্যাক্স ও আইম্যাক্স ৭০ মিমি ফরম্যাটের পার্থক্য কোথায়?
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৪৩  

হলিউডের খ্যাতনামা পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন চলচ্চিত্র ‘দি ওডিসি’ ঘিরে সিনেপ্রেমীদের কৌতূহলের শেষ নেই। সম্পূর্ণ ‘আইম্যাক্স ৭০ মিমি’ সেলুলয়েড ফিল্ম ফরম্যাটে চিত্রায়িত প্রথম কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হওয়ায় বিষয়টি এরই মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশ্বজুড়ে এটি আইম্যাক্স ৭০ মিমি এবং ডিজিটাল আইম্যাক্স- উভয় ফরম্যাটেই দেখার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রেক্ষাগৃহভেদে এই দুই প্রযুক্তির দৃশ্যমান মান ও সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতায় রয়েছে আকাশ-পাতাল তফাত।

সিনেমা প্রদর্শনের ইতিহাস ও প্রযুক্তিতে সবচেয়ে নিখুঁত অভিজ্ঞতা দেয় আসল ‘আইম্যাক্স ৭০ মিমি’ ফিল্ম প্রজেকশন। প্রজেকশন প্রযুক্তির অনন্য উচ্চতা হিসেবে বিবেচিত এই ফরম্যাটে পাওয়া যায় প্রায় ১৮-কে সমমানের রেজ্যুলিউশন, যা সাধারণ প্রেক্ষাগৃহের তুলনায় বহুগুণ বেশি স্পষ্ট। প্রথাগত আয়তাকার ওয়াইডস্ক্রিনের বদলে এটি ১.৪৩:১ অনুপাতে প্রায় ৫৯ বাই ৭৯ ফুটের বিশাল বর্গাকার পর্দায় প্রদর্শিত হয়, যা দর্শকের চোখের পুরো দৃশ্যপটকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এই প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত ওয়াটার-কুল্ড জেনন বাল্ব সাধারণ প্রেক্ষাগৃহের চেয়ে প্রায় সাড়ে সাত গুণ বেশি উজ্জ্বলতা তৈরি করে। তবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল হওয়ায় বিশ্বজুড়ে মাত্র হাতেগোনা ৩৯টি প্রেক্ষাগৃহে এই প্রজেক্টর চালানোর মতো অবকাঠামো রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ২৪টি, কানাডায় ৯টি এবং বাকি ৬টি থিয়েটার অন্যান্য দেশে অবস্থিত।

যেসব অঞ্চলে আইম্যাক্স ৭০ মিমি প্রজেক্টর নেই, সেখানে মূল ভরসা ‘ডিজিটাল আইম্যাক্স’ বা ‘আইম্যাক্স উইথ লেজার’। এটি ৭০ মিমি ফিল্ম প্রজেক্টরের পরবর্তী সেরা বিকল্প। ডিজিটাল আইম্যাক্সে সর্বোচ্চ ৪-কে রেজ্যুলিউশন পাওয়া যায়, যা সেলুলয়েড ৭০ মিমি ফিল্মের চার ভাগের এক ভাগ হলেও সাধারণ ২-কে প্রজেক্টরের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট। লেজার প্রযুক্তির কারণে এর ছবির উজ্জ্বলতা ও রঙের তফাত বা কনট্রাস্ট অসাধারণ হয়। তবে বেশিরভাগ ডিজিটাল প্রেক্ষাগৃহে ১.৯০:১ অনুপাতের ওয়াইডস্ক্রিনে সিনেমা দেখানো হয় বলে মূল দৃশ্যের ওপর ও নিচের কিছুটা অংশ বাদ পড়ে যায়।

এই দুই প্রযুক্তির বাইরে ‘স্ট্যান্ডার্ড ৭০ মিমি’ নামে আরেকটি পুরোনো সেলুলয়েড ফরম্যাট রয়েছে। এটি সাধারণ ৩৫ মিমি ফিল্মের চেয়ে বড় হলেও আইম্যাক্স ৭০ মিমি-র মতো বিশাল নয়। ২.২:১ ওয়াইডস্ক্রিন অনুপাতের এই ফরম্যাটে রেজ্যুলিউশন পাওয়া যায় প্রায় ৬-কে সমমানের, যা আইম্যাক্স ৭০ মিমি-র তিন ভাগের এক ভাগ। তবে সাধারণ ডিজিটাল প্রজেকশনের তুলনায় এর ছবির গভীরতা ও রূপালী পর্দার অনুভূতি অনেক বেশি জীবন্ত।

প্রযুক্তির নানা পরিবর্তন সত্ত্বেও মূল সেলুলয়েড ফিল্মের গভীরতা আর বিশালতার স্বাদ দিতে এখনো ‘আইম্যাক্স ৭০ মিমি’-র কোনো বিকল্প তৈরি হয়নি। ফলে বড় পর্দায় নোলানের রূপালী জগতের পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা পেতে দর্শক কোন প্রযুক্তির প্রেক্ষাগৃহ বেছে নিচ্ছেন, সেটিই এখন বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডিবিটেক/বিএমটি