অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে উদ্বেগ, বালাইনাশক খাত সংস্কারে ১৯ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি
- বালাইনাশক খাত সংস্কারে ১৯ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন
- তিন মাসে নতুন নীতিমালার সুপারিশ দেবে কমিট
- নিরাপদ খাদ্য, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব
গবেষণা বলছে, আলু, বেগুন এবং বোরো ধানের জন্য এই দুটি বিভাগে সবচেয়ে বেশি কীটনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহৃত হয়। উত্তরবঙ্গের শুষ্ক বরেন্দ্র অঞ্চলে (Varendra region) জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পোকার আক্রমণ বাড়ায় কৃষকরা অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে ৮ থেকে ১০ গুণ বেশি বিষ স্প্রে করছেন।
একইভাবে নরসিংদী, সাভার, টাঙ্গাইল এবং শেরপুর-ময়মনসিংহ অঞ্চলে নিবিড় সবজি চাষের কারণে মারাত্মক মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং বেগুন চাষে এক মৌসুমে ১৭ থেকে ১৫০ বার পর্যন্ত কীটনাশক ছিটানো হচ্ছে এবং ফসল তোলার ঠিক আগ মুহূর্তের নিয়ম (Pre-Harvest Interval - PHI) মানা হচ্ছে না।
তবে উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলে টমেটো এবং তরমুজ চাষে সাম্প্রতিক সময়ে রাসায়নিকের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। তবে আশার কথা হলো, সাতক্ষীরা ও যশোর অঞ্চলে আন্তর্জাতিক অর্থায়নে জৈব-কীটনাশক (Biopesticides) ও ফেরোমন ট্রাপের (Pest Traps) ব্যবহার কিছুটা বাড়ছে।ভ
কিন্তু চট্টগ্রাম ଓ সিলেট বিভাগ: এই দুই বিভাগের চা-বাগান এবং শীতকালীন সবজি চাষে কীটনাশক ব্যবহারের প্রবণতা বেশি। পাশাপাশি পার্বত্য ও হাওর অঞ্চলের স্থানীয় আদিবাসী ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো জানিয়েছে, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পাহাড়ি বুনো সবজি এবং হাওরের দেশীয় মাছ ও ওষুধি গাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশে কৃষি খাতে কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে (২০২৪–২০২৬) এক আশঙ্কাজনক চিত্র সামনে এসেছে, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত ৫ বছরে কীটনাশকের ব্যবহার প্রায় ৮১.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এবং বাংলাদেশ কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ৩৯,০০০ থেকে ৪৫,০০০ মেট্রিক টনের বেশি রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে।
টেকসই কৃষি উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং মাটি, পানি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশের বালাইনাশক খাতকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে ১৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। আগামী তিন মাসের মধ্যে বিদ্যমান আইন, বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যালোচনা করে নতুন নীতিমালা (পলিসি গাইডলাইন) প্রণয়নের সুপারিশ দেবে কমিটি।
কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান বালাইনাশক আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নীতিমালা প্রণয়ন, বালাইনাশক ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুপারিশ প্রণয়ন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপকরণ-২ শাখা থেকে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
উপসচিব মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, বালাইনাশকের আমদানি, উৎপাদন, ব্যবহার ও গুণগতমান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিবন্ধন, লাইসেন্সিং ব্যবস্থা, প্রশাসনিক কাঠামো, গবেষণাগারের কার্যক্রম এবং মনিটরিং ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে খাতটিকে সময়োপযোগী ও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সদস্য-সচিব হিসেবে থাকবেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
এ ছাড়া কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং চিকিৎসা ও পরিবেশবিষয়ক বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের কো-অপ্ট করার ক্ষমতাও থাকবে কমিটির।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের আশা, কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বালাইনাশকের নিরাপদ ও পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।
//ডিবিটেক/বিডিএন/এসএমই//





