দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
৭ জুন, ২০২৬ ১২:০৮  

প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সচেতনতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার আহ্বান জানান তিনি।

স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে উচ্চশিক্ষায় আমূল সংস্কারের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে হলে সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

৭ জুন, রবিবার সকালে -এ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই দাবির কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদ ও গণতন্ত্রকামী মানুষের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের কারণে বহু প্রচলিত পেশা হারিয়ে গেলেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ বাস্তবতায় সরকার শিক্ষাক্রমে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ, ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানো টেকনোলজি এবং ৫জি প্রযুক্তির মতো বিষয় যুক্ত করছে।

তিনি বলেন, উচ্চ একাডেমিক সনদ থাকা সত্ত্বেও প্রায়োগিক দক্ষতার অভাবে শিক্ষিত তরুণরা বেকারত্বের মুখোমুখি হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয়, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিষ্ঠিত দেশের ২ হাজারের বেশি কলেজ ও প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিভাগীয় শহরভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মদক্ষতা অর্জন করতে পারে।

তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সিড ফান্ডিং ও ইনোভেশন গ্র্যান্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান তিনি। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সময় থেকেই নিজস্ব ব্যবসায়িক উদ্যোগ শুরু করতে পারবেন।

শিক্ষকদের সমাজ পরিবর্তনের অগ্রদূত হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়; এটি একটি সম্মিলিত প্রয়াস। বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, নাগরিক সমাজ ও শিল্পখাতের সমন্বিত অংশগ্রহণেই দক্ষ মানবসম্পদভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

//ডিবিটেক/বিএমবিইউ/আইএইচ//