বিশ্বমঞ্চে অনন্য গৌরব: 

ইন্দোনেশিয়ায় জোড়া স্বর্ণপদক জিতল যশোর জিলা স্কুলের ‘ফিউচার সায়েন্টিস্ট’

ইন্দোনেশিয়ায় জোড়া স্বর্ণপদক জিতল যশোর জিলা স্কুলের ‘ফিউচার সায়েন্টিস্ট’
৭ জুন, ২০২৬ ০০:০০  

বিশ্বমঞ্চে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করল যশোরের দুই তরুণ বিজ্ঞানী। ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত দুটি পৃথক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে গৌরবময় গোল্ড মেডেল (স্বর্ণপদক) অর্জন করেছে যশোর জিলা স্কুলের ‘ফিউচার সায়েন্টিস্ট’ দল।

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার মর্যাদাপূর্ণ ‘উনিভার্সিতাস নেগেরি জাকার্তা’ (ইউএনজে) বিশ্ববিদ্যালয়ে সপ্তাহব্যাপী প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে ৫ জুন, শুক্রবারএই অনন্য কীর্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিশ্বের ৫৫টি দেশের প্রায় ২০০ জন প্রখর মেধাবী প্রতিযোগীর সাথে তীব্র লড়াই করে আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে দেশের জন্য এই অবিস্মরণীয় জয় ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশের এই দুই খুদে বিজ্ঞানী।

এক জোটে দুই নক্ষত্র: জাওয়াদ ও রাইয়ান

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যশোর জিলা স্কুলের ‘ফিউচার সায়েন্টিস্ট’ দলের এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে বিদ্যালয়টির দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের দুই শিক্ষার্থী। তারা হলেন—দলনেতা ও দিবা শিফটের ছাত্র এস এম জাওয়াদ হোসেন এবং প্রভাতি শিফটের ছাত্র রাইয়ান সাদিক।

দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই তরুণ মেধা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, রোবোটিক্স এবং উদ্ভাবনভিত্তিক বিভিন্ন গবেষণামূলক প্রকল্প নিয়ে কাজ করে আসছিলেন। তাদের সেই সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার নিখুঁত স্বীকৃতি মিলল এবার আন্তর্জাতিক এই গ্র্যান্ড প্ল্যাটফর্মে।

বাস্তবমুখী উদ্ভাবনে বাজিমাত

সাফল্যের অনুভূতি ব্যক্ত করে এস এম জাওয়াদ হোসেন ও রাইয়ান সাদিক জানায়, তাদের ‘ফিউচার সায়েন্টিস্ট’ দলের উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো মূলত বাস্তব জীবনের বিভিন্ন জটিল সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তির কার্যকর ও সাশ্রয়ী প্রয়োগকে বিশেষভাবে ফোকাস করে তৈরি।

তারা আবেগপ্লুত হয়ে আরও বলে: 

"এটি কেবল একটি পদক অর্জনের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের তরুণ উদ্ভাবকদের স্বপ্নকে বিশ্বমঞ্চে ডানা মেলার একটি দৃঢ় পদক্ষেপ। বিশ্বের নানা দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। এই সাফল্যের জন্য আমরা আমাদের শিক্ষক, অভিভাবক এবং সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।"

"নিঃসন্দেহে অনেক গর্বের"

যশোর জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "বিশ্বের ৫৫টি দেশের ২০০ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের ছাত্রদের এই জোড়া স্বর্ণপদক অর্জন নিঃসন্দেহে অনন্য এবং আমাদের পুরো দেশের জন্য অনেক গর্বের।" তরুণদের এই ধরনের বৈশ্বিক সাফল্য দেশের সামগ্রিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতকে আরও বহুদূর এগিয়ে নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

//ডিবিটেক/ জেএনজেএল/ এমইউআইএম//