ইসির সংলাপে বারে বারে ফিরে আসে এআই ও সাইবার মাধ্যমে অপতথ্য

ইসির সংলাপে বারে বারে ফিরে আসে এআই ও সাইবার মাধ্যমে অপতথ্য
৬ অক্টোবর, ২০২৫ ২০:১২  

ফেব্রুয়ারি প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসাবে তফসিল হতে পারে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে। এই ভোটে আবারো আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের (এআই) অপব্যবহারের শঙ্কা প্রকাশ করলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। 

৬ অক্টোবর, সোমবার বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে  সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত সংলাপে এমন শঙ্কার কথা জানান তিনি।

সিইসি বলেন, আপনারা অনেক মূল্যমান পরামর্শ দিয়েছেন। কানাডার হাইকমিশনার আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। উনার কাছে আমরা এআই নিয়ে সাহায্য চেয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম তোমরা (কানাডিয়ান হাইকমিশনার) তো ইলেকশন করলা আমাদের একটু সাহায্য করো। কীভাবে এআইয়ের অপব্যবহার রোধ করা যায়। কানাডার হাইকমিশনও বললো তার দেশেও এআই বড় সমস্যা। তারাও অনেক কিছু করেছে কিন্তু এআই কন্ট্রোল করতে পারেনি। তারা চেষ্টা করে কিছুটা কমিয়েছে কিন্তু রোধ করতে পারেনি। আমাদেরও এআই নিয়ে অনেক সমস্যায় ভুগতে হবে। উনিও আমাদের ভরসা দিতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, আমরা ক্রিটিকাল সময়ে দায়িত্ব নিয়েছি। এর মধ্যেই আমরা পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করছি। এটা যদিও আগে ছিল। কাজীর গরু কিতাবে ছিল না, তেমন ছিল। আমরা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। প্রবাসী ভাইয়েরা বলেছেন, আমরা ভোট দিতে চাই। অনেক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্বেও বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় মোটামুটি একটা পদ্ধতি বের করেছি। ডিজিটালের পাশপাশি। অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করার পর পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন। অনেকটা সংকর পদ্ধতি। আমরা আপনাদের পাশে পেতে চাই। এগুলো প্রচার করবেন।

ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজের সঞ্চালনায় সংলাপে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির অন্য কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সংলাপে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নিজেদের প্রত্যাশা ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সম্পাদক ও সাংবাদিক প্রতিনিধিরা। তাদের বক্তব্যে নির্বাচনে এআই এর অপব্যবহার এবং  সামাজিক যোগাযোগ ও সাইবার মাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে ‘শক্ত অবস্থান’ নেওয়ার সুপারিশ করেন সাংবাদিকরা। 

সংলাপে ‘এআই ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে’ উল্লেখ করে এ ব্যাপারে সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনে বিদেশি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। এছাড়া তিনি সাইবার নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেন। পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়া ‘সহজ করে’ প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং ঢাকার বাইরেও অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ আয়োজন করার সুপারিশ করেন তিনি৷

তিনি বলেন, প্রত্যাশা থাকবে আপনারা মেরুদণ্ড সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে জাতির কাছে পৌঁছাবেন। এটি দেশকে নতুন করে গড়ার একটি বিরল সুযোগ। যা হয়তো ৫০ বা ১০০ বছরে আসবে না। তিনি ইসিকে ডু অর ডাই মনোভাব নিয়ে দৃঢ়তার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান।

নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, তরুণ এবং গণ্যমান্য শিক্ষকদের নিয়ে একটি নজরদারি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন তিনি। তার মতে, এটি নির্বাচন কমিশনের কাজ অনেকাংশে সহজ করবে এবং সবার মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হবে। 

ডিজিটাল স্পেসে অর্থ প্রয়োগের মাধ্যমে জনমত তৈরির বিষয়টি তুলে ধরে প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ  বলেন, সাবেক ক্ষমতাসীন দল একটি বিরাট ডিজিটাল বাহিনী গড়ে তুলেছিল এবং এবারের নির্বাচনে এর ব্যাপক ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি হলফনামা ও নির্বাচনী ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ইসিকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে এবং দু-একটি ক্ষেত্রে নজির স্থাপন করে নৈতিক শক্তির পরিচয় দিতে হবে।

এছাড়াও প্রার্থীর হলফনামা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা ওয়েবসাইটে আপলোড করার দাবি জানান আজকের পত্রিকার সম্পাদক কামরুল হাসান। তিনি বলেন, এতে ভোটাররা প্রার্থীর সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য দ্রুত জানতে পারবে। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশনকে কোনো ধরনের গোপন নির্দেশনা না দেওয়ার অনুরোধ করেন, যা স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন সাইবার অপরাধ ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে কমিশনকে তাগিদ দেন। একইভাবে সাইবার মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য মহড়া জাতির সামনে উপস্থাপন করতে কমিশনকে অনুরোধ করেন দৈনিক আমাদের সময়ের নির্বাহী সম্পাদক এহসান মাহমুদ। 

সংলাপে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক আবু তাহের, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, দৈনিক আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, দৈনিক নয়াদিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, ডেইলি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক সামসুল হক জাহিদ, দ্য ডেইলি স্টারের হেড অব নিউজ জিয়াউল হক, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, জাগোনিউজ২৪.কমের সম্পাদক কেএম জিয়াউল হক, বাসস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ, দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আযম মীর শহীদুল আহসান, দৈনিক খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল, দৈনিক খবর সংযোগের প্রধান সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম, ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল, সারাবাংলাডটনেট-এর হেড অব নিউজ গোলাম সামদানী,বাংলাবাজার পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক রাশেদুল হক,যায়যায়দিনের যুগ্ম সম্পাদক মো. মাহমুদুজ্জামান, দৈনিক ইত্তেফাকের রাজনীতি ও নির্বাচন বিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান,  ইউএনবির বার্তা সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, নির্বাচন কমিশন বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন (জেবেল), আরএফইডির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।