রাইড শেয়ারিং চালকদের বিরুদ্ধে ‘খ্যাপে’ ইচ্ছে মতো ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
অ্যাপের চেয়ে এখন ‘খ্যাপে’ই বেশি ভাড়া মারছেন রাইড শেয়ারিং চালকরা। ঈদের ছুটিতে এই প্রবণতা বাড়ার পাশাপাশি ইচ্ছে মতো ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। যাত্রীদের অভিযোগ রাজধানীতে তেল সংকটকে কেন্দ্র করে অফিস ছুটি শেষের প্রথম কার্য দিবস থেকেই রাইড শেয়ারিং সেবার ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। নির্দিষ্ট দূরত্বে আগের চেয়ে খ্যাপে ভাড়া গড়ে ৫০-১০০ টাকার মতো বেশি নেয়া হচ্ছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
গুলশান-২ এর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বসুন্ধরা আবাসিকের একজন বাসিন্দা হাসান আরিফের অভিযোগ, আগে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় কর্মস্থলে যাতায়াত করতেন। কিন্তু বর্তমানে একই দূরত্বে যেতে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে, এর কমে কোনো চালক যেতে রাজি হচ্ছেন না।
তেল সংকটের অজুহাতে বাইক রাইডের ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হাঁকছেন অভিযোগ করে বনশ্রীর আরেক যাত্রী সেলিম মিয়ার ভাষ্য, যেখানে আগে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় যাওয়া যেত, এখন সেখানে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দিতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে রাজধানীতে দ্রুত যাতায়াতের জন্য রাইড শেয়ারিং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সময় বাঁচাতে অনেকেই বাইকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তবে সাম্প্রতিক তেল সংকটে সেই সুবিধা এখন ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর প্রায় সব এলাকাতেই- মিরপুর, উত্তরা, কাওলা, রামপুরা ব্রিজ, হাতিরঝিল, কাওরান বাজার, ফার্মগেট, গ্রিন রোড, শ্যামলী, গাবতলী, মিরপুর-১০, উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর, মহাখালী, বনানী, বাড্ডা, বাসাবো, সায়দাবাদ ও যাত্রাবাড়ীসহ—রাইড শেয়ারিং চালকরা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, ঈদের ছুটি শেষে মঙ্গলবার থেকে অফিস-আদালত খুলেছে। গ্রাম থেকে ফেরা মানুষের চাপ বাড়ায় ঢাকার প্রবেশপথগুলোতেও বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
অন্যদিকে চালকদের দাবি, তেলের মূল্য না বাড়লেও সরবরাহ সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। আবার ঠিকমতো তেলও পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া নিতে হচ্ছে।
সব মিলিয়ে তেল সংকটের প্রভাবে যাত্রী ও চালক—উভয় পক্ষই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ডিবিটেক/ডিএইচই/এমইউএম







