রেলমন্ত্রীকে ফোন করে কান্নায় ভেঙে পড়েন কুমিল্লার এমপি
কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় হতবিহ্বল স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মনিরুল হক চৌধুরী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হস্তক্ষেপ চেয়েছেন রেল ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর।
মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার ঘণ্টা কয়েক পরে রেল ও সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ফোন করে কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির এ সংসদ সদস্য। মন্ত্রীর সঙ্গে সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত এ সাংসদের কান্নারত সেই কথোপকথনের একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
২২ মার্চ, রবিার সকাল ১০টায় সিঙ্গাপুর থেকে মনিরুল রেলমন্ত্রীকে টেলিফোন করেন।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি মন্ত্রীকে (শেখ রবিউল) দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অনুরোধ করেন। নিজের চিকিৎসা শেষে দ্রুত দেশে ফেরার কথাও জানান।
এর আগে ২১ মার্চ, শনিবার রাত ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় যাত্রীবাহী একটি বাসের ১২ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি ক্রসিং পার হওয়ার সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাস রেললাইনে উঠে পড়লে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটিকে ছেঁচড়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেন।
এর ঘণ্টা কয়েক পর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করা স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল ঘটনাস্থল পরির্দশন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়ে ফোন করেন রেলমন্ত্রীকে।
পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয় জানিয়ে কাঁদতে কাঁদতে মন্ত্রীকে মনিরুল বলেন, এটা নতুন ঘটনা নয়, গত ১শ বছর ধরে এমন ঘটনা ঘটছে, কেউ বিচার করে না।
‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রেল সচিবের কাছে সব কাগজপত্র আছে। পদুয়ার বাজার ব্যারিকেডে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) টাকা দিয়েছিল, লুট করে খেয়ে ফেলেছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। এই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জন্য ৭৫০ কোটি টাকা দিয়েছিল সাইফুর রহমান, এই কাজটি কমপ্লিট করতে পারিনি।’
এ সময় অপর প্রান্ত থেকে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি সেদিনও বলেছেন….।’
জবাবে মনিরুল কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘আপনি একটু গিয়ে দেখুন। আমার চিকিৎসক দেখানোর সূচি কাল (সোমবার) রাতে। চিকিৎসক দেখানো হলে আমি কাল রাতেই ফ্লাইট ধরার চেষ্টা করব। এই লাশ দেখতে দেখতে আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি। ভাই রবিউল, এই পদুয়ার বাজার রেলওয়ে ব্যারিকেড (এর ব্যবস্থা করেন) আমি শান্তি পাব জীবনে।
‘আমি কাউকে নিতে পারি নাই, আপনি একটু দেখে আসেন। মির্জা ফখরুলকে (স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) নোয়াখালী যাওয়ার সময় দেখিয়েছিলাম। আপনি একটু দেখে আসেন।’
এ সময় মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, আমি যাচ্ছি, রওনা দিয়েছি। আমি যা করার করব। এ সময় মনিরুল বলেন, আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন। আপনি আমার ডাকে সাড়া দিয়েছেন।
ডিবিটেক/এফবিও/ইকে



