সেলফি-তে ঈদানন্দ
পোশাকের পাশাপাশি ক্রমেই ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট। এই দু’য়ে মিলে গ্রামীণ-শহুরে জীবনের ঈদ’র আনন্দ ভাগাভাগি হচ্ছে সোশ্যাল হ্যান্ডেলে। ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি করতে করতে তা সেলিফি-তে ধারণ করছেন নাগরিকরা। ঈদগাহের প্রাঙ্গণ এখন যেন কোলাকুলি আর সেলফির ছোঁয়ায় ভরা আনন্দের সাগরে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি হাসি, প্রতিটি আলাপ, প্রতিটি ছবি-সব মিলিয়ে এক অসাধারণ ঈদ উদযাপনের স্মৃতি তৈরি করছে করছে ডিজিটাল বাংলায়।
কোনো বিশেষ আয়োজন ছাড়াই পকেট থেকে ফোন বের করে একটু সামনে তাকাই বলেই প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দের অসংখ্য ছবি উঠছে আঙুলের হালকা ছোঁয়ায়। ফোনের মেমোরি শেষ হলে তা আবার আবার সংরক্ষণ হচ্ছে ড্রাইভে। কেউ আবার সোশ্যার হ্যান্ডেলে অ্যালবামে সাজিয়ে রাখছেন ঈদ-মুহূর্ত। সকালবেলার ঈদের নামাজ থেকে শুরু করে বিকেলের আড্ডা সবকিছুই স্মার্টফোনবন্দি হয় এখন।
ফলে ছবি তুলতে আলাদা করে ডিএসএলআর ক্যামেরাম্যানের দিনগুলো এখন ফিকে হতে চলেছে। এইভাবে নতুন নোটের কদর থাকলেও ঈদির ডামাডোল এখন অনেকটাই মোবাইল ওয়ালেট কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। ঈদি তাই আসে এখন খুদে বার্তায় ডিজিটালি। হাতে ছুঁয়ে নয় অনুভবে। বাস্তবে পেতে হলে ক্যাশ আউট করতে হয়। একইভাবে লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দিন শেষে এখনকার স্মার্টফোন দিয়েই কিছু কৌশল মেনে ডিএসএলআরের মতোই চমৎকার ছবি তুলতে পারছেন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা। ২১ মার্চ, শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে প্রায় সকল ঈদগাহ ও মসজিদেই দেখা যায়, ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সেলফির মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন।
নামাজ শেষে ঈদগাহের মাঠ যেন জীবন্ত উৎসবে পরিণত হয়েছে। বাবা-মা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব-সবাই একসাথে মিলিত হয়ে হাসি, আনন্দ এবং প্রিয়জনের সঙ্গে মুহূর্তগুলো ধরে রাখছেন। ছোট্ট শিশুদের কোলের মধ্যে খেলা, বড়দের আন্তরিক আলাপ, এবং পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য তৈরি উচ্ছ্বাস-সব মিলিয়ে ঈদগাহে এক অভিনব দৃশ্য তৈরি করেছে। সেই দৃশ্যপটগুলো কখনও লাইভে, কখনওবা টুকরো টুকরো স্মৃতি হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
অনেক মুসল্লি বলছেন, ঈদ মানেই মিলন ও আনন্দ। আজ নামাজের পর সবাই একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছে, হাসছে, ছবি তুলছে-এটাই আমাদের উৎসবের আসল সৌন্দর্য। ঈদের সেলফিতে ঈদের আনন্দ ফুটে ওঠে আরো কয়েকগুন বেশি।
ঈদের দিনের সেলফির আড়ালে লুকিয়ে আছে হাজারো বেদনাও। এই যেমন শত কষ্ট বুকে চাপা দিয়ে ছবি অথবা সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করে ঈদের আনন্দ খুঁজে বেড়ায় প্রবাসীরা। সোশ্যাল হ্যান্ডেলে স্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার গাঙ্গালিন মসজিদ প্রাঙ্গনের ছবি প্রকাশ করে একজন প্রবাসী জানালেন, প্রবসাীরা মিলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি হয় ঠিকই। কিন্তু মন পড়ে থাকে দেশের স্বজনদের সঙ্গে। এখান থেকে বাবা-মা ও স্বজনদের সাথে ঈদের আনন্দ শেয়ার করতেই ঈদে সেলফি তুলি। এটাও ঈদ আনন্দের অনুষঙ্গ হয়ে গেছে। তাইতো কোলাকুলির সঙ্গে সঙ্গে একটি করে সেলিফিও তুলি।



