প্রযুক্তিগত অপরাধ মোকাবিলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ঘোষণা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর
বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিগত অপরাধ মোকাবিলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬-এর এক বিশেষ অধিবেশনে ‘National Commitments/Pledges on Combating Fraud’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে এই ঘোষণা দেন তিনি।
১৬ মার্চ, সোমবার অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে স্থানীয় সময় বিকালে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে দেয়া বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত অপরাধ শনাক্তকরণ এবং দমনে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এখন নতুন বাংলাদেশে কোনো অপরাধীর জায়গা নেই। আমরা কেবল অভ্যন্তরীণভাবেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও প্রোটোকলগুলো অনুসরণের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে অপরাধ দমনে আমাদের অঙ্গীকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশে ডিজিটাল স্ক্যাম, এমএলএম পঞ্জি স্কিম এবং করপোরেট দুর্নীতির ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ২০০৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দেশে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে আনুমানিক ২১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে এমটিএফই এবং বিভিন্ন বিতর্কিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এসময় উপস্থিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের এই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমন কৌশলের প্রশংসা করেন।
সেমিনারে সন্ত্রাসবাদ, মাদক, মানব পাচার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে সরকারের সুদৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বক্তব্যে মানি লন্ডারিং ও আর্থিক জালিয়াতি রোধে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে ব্যাংকিং, অ-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, রিয়েল এস্টেট এবং জুয়েলারি খাতকে অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে এসব খাতে নজরদারি আরো জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই খাতগুলোতে কঠোর তদারকি ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।
আর্থিক অপরাধ দমনে বাংলাদেশের শক্তিশালী আইনি কাঠামোর উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২’ এবং ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা আইন ২০১২’-এর সর্বোচ্চ ও কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক আইনি সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
ডিবিটেক/এফএইচ/ইকে



