নগরীতে বিদ্যুতচালিত গণপরিবহনে অগ্রাধিকার
রাজধানীর গণপরিবহনব্যবস্থায় দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় বিদ্যুৎচালিত বাস দিয়ে গণপরিবহনব্যবস্থার রূপান্তর করতে যাচ্ছে সরকার। ২ মার্চ, সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে এই তথ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ শামসুল হক।
ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত এলাকায় গণপরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণে লাইট রেল ও মনোরেল চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রায় আট-নয় মাস আগে তারেক রহমান নিজে থেকেই গণপরিবহন খাত সংস্কারের বিষয়ে আগ্রহ দেখান। তিনি দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থানকালে সেখানকার গণপরিবহনব্যবস্থা কাছ থেকে দেখেছেন এবং বাংলাদেশে জনগণবান্ধব একটি কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছেন। বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়টি তাকে ভাবাচ্ছে।
তিনি বলেন, ঢাকায় মেট্রোরেল চালু হলেও পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তের অনেক ঘিঞ্জি ও অপরিকল্পিত এলাকায় এখনো গণপরিবহনের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। বাসাবো, গোড়ান, মাদারটেক ও পুরান ঢাকার মতো এলাকায় বিপুল জনগোষ্ঠী বাস করলেও তারা অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত বাসসুবিধাও পায় না। তাই মেট্রোরেলের পাশাপাশি লাইট রেল, মনোরেল, বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি, বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ও সাধারণ বাস—সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বুয়েটের এই প্রকৌশলী বলেন, প্রাথমিক এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হবে গণপরিবহনকে সুশৃঙ্খল করা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ ও আবেদনসৃষ্টিকারী বাসসেবা চালু করা। নারীদের জন্য বিশেষায়িত বাস, যেখানে নারীচালক নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে, তা দ্রুত চালুর বিষয়ে আগ্রহ দেখানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় বিদ্যুৎচালিত বাস দিয়ে গণপরিবহনব্যবস্থার রূপান্তর শুরু করার কথাও গুরুত্ব পেয়েছে। ডিজেলচালিত বাসের পরিবর্তে ধাপে ধাপে ইলেকট্রিক বাস চালুর মাধ্যমে দূষণ কমানো এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্বল্পসময়ে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
শামসুল হক আরও জানান, বাসব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে জোনভিত্তিক পাইলট কার্যক্রম চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কম বিনিয়োগে বেশি মানুষের কভারেজ নিশ্চিত করা এবং মেট্রোরেলের পরিপূরক হিসেবে অন্যান্য গণপরিবহনব্যবস্থাকে সমন্বিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, মেট্রোরেলের যে ছয়টি রুটের রূপরেখা রয়েছে, তা প্রধান সড়ক ধরে বিস্তৃত। তবে মেট্রোর বাইরে থাকা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিপূরক ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি সমীক্ষা করে প্রস্তাবনা দেওয়ার কথা হয়েছে, যাতে চলতি বছরেই কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া যায়। আলোচনার ভিত্তিতে একটি সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার কথা হয়েছে। গণপরিবহনকে সমন্বিত, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব রূপে গড়ে তুলতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সরকারের আগ্রহ রয়েছে।
ডিবিটেক/এসএইচ/ইকে







