নির্বাচনের মাঠে নজর রাখবে ৪২৮টি ড্রোন

নির্বাচনের মাঠে নজর রাখবে ৪২৮টি ড্রোন
নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্রিফ করছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০৬  

সারাদেশে নির্বাচনী নিরাপত্তায় এবারই প্রথম ড্রোনের ব্যবহার হতে যাচ্ছে। দেশজুড়ে বিস্তৃত ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রের জন্য সমন্বিতভাবে ৪২৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচনে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে থাকবে ৪১৮টি ড্রোন। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ২০০টি, বিজিবি কর্তৃক ১০০টি ও  বাংলাদেশ পুলিশ ৫০টি এবং র‌্যাব ১৬টি ড্রোনে ভোটের মাঠে নজর রাখবে। এছাড়াও নৌ-বাহিনী ১৬টি, কোস্ট গার্ড  ২০টি ড্রোন ব্যবহার করবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ব্যবহার করবে ১৬টি ড্রোন। 

এছাড়াও পুলিশ সদস্য কর্তৃক অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রসমূহে ২৫ হাজার বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহৃত হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্থাপন করা হবে সিসিটিভি।

১৯ জানুয়ারি, সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভা শেষে এই তথ্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। 

তিনি বলেছেন,  এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ -এর ব্যবহার যেটি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হবে। একইসঙ্গে ৪২৮টি ড্রোন এবং ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করবে নির্বাচনী নিরাপত্তায় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে দুই পর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে। এ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা থেকে শুরু করে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স পরিচালনা— সবকিছুর সমন্বয় থাকবে রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীন। গত ৬ জানুয়ারি আমাদের (স্বরাষ্ট্র) মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দ্বিতীয় পর্বে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৭ দিন  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ, আনসার ভিডিপির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড এবং র‍্যাবের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। এ সমন্বয় সেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। 

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়ার জন্য জরুরি পরিষেবা নম্বর ৯৯৯-এ বিশেষ টিম গঠন করে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। ওই টিম নির্বাচনসংক্রান্তু প্রাপ্ত অভিযোগ/তথ্যের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এলাকাভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে পাঠাবে। 
ডিবিটেক/আইএইচ/ইকে