সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতি নিয়ে শঙ্কিত ইসি

সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতি নিয়ে শঙ্কিত ইসি
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০০:০০  

২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। এবার পোস্টার ছাপা বন্ধ থাকলেও ডিজিটাল মাধ্যমে নানা মাত্রিকায় শুরু হচ্ছে প্রচারণা। এমন পরিস্থিতিতে ‘সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে দেখছেন নির্বাচন কমিশন। মাস জুড়েই এআই ও ফেইক ভিডিও, ছবি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি এ বিষয়ে কঠোর আইনের কথাও তুলে ধরেছেন। 

সেই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যালট, গণভোটের ব্যালট এবং পোস্টাল ব্যালট গণনার ক্ষেত্রে কিছুটা বাড়তি সময় প্রয়োজন হবে। এটিকে ঘিরে যেন কোনো অপতথ্য বা গুজব ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য গণমাধ্যমগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর আয়োজিত গণভোটকে সামনে রেখে ২১ জানুয়ারি, বুধবার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় এমন তাগিদ দেন তিনি। রাজধানীর তেজগাঁয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ সভায় সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

পরে বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ বিষয়ে বলেন, বিভিন্ন এলাকার ভোট কেন্দ্র ভেদে ভোটার সংখ্যা ভিন্ন ও এবার ভোট গণনার পাশাপাশি গণভোট গণনা পরিচালিত হবে। এ কারণে ফলাফল প্রকাশে এলাকা ভেদে কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে।

এদিকে ভোটের গাড়ি চলতে শুরু করারর  মধ্যেই নানা অপপ্রচারে ছেয়ে গেছে নেটদুনিয়া। এআই দিয়ে তৈরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট দলের পক্ষে ভোট চাওয়া হচ্ছে। এআই দিয়ে নারী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু চরিত্র তৈরি করে বিপক্ষ দলের সমালোচনা করা হচ্ছে। ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব এর পর্যবেক্ষণ বলছে, ২০২৫ সালে প্রচারিত অপতথ্যের প্রতি তিনটির একটি এআই নির্মিত। ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানারের পরিসংখ্যান বলছে, সংসদ নির্বাচন ঘিরে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে ৩০৯টি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে। সব মিলিয়ে এক বছরে রাজনীতির বিষয়ে ২ হাজার ২৮১টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে, যা অন্যসব ক্যাটেগরি থেকে বেশি।  ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ইনফরমেশন এনভায়রনমেন্টের (আইপিআইই) নির্বাচনী ডেটাবেজ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পাঁচটির মধ্যে চারটি নির্বাচনে এআই ব্যবহৃত হয়েছে। 

এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, পক্ষপাতমূলক, বিদ্বেষপূর্ণ, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ এবং মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি, প্রকাশ, প্রচার ও শেয়ার করা নিষিদ্ধ’ করা হলেও এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কঠোর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন অবশ্য আগেই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে নানামুখী অপপ্রচার মোকাবিলা করাই বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, এখন তো এআইর যুগ। এআই নিয়ে শুরু থেকেই আমি শঙ্কা প্রকাশ করে আসছি, এটা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।   

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের প্রায় ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে এবং তাদের শতকরা ৭০ জনই সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়। একই সঙ্গে তারা ডিজিটাল জগতে তথ্য যাচাই করতে অভ্যস্ত নয়। প্রচলিত সামাজিক মাধ্যমের খবর পরীক্ষা না করেই বিশ্বাস করে মানুষ। ফলে বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়ানোর সুযোগ বেশি। একটি মাত্র মিথ্যা ভিডিও কোটি মানুষকে অনায়াসে প্রভাবিত করতে পারে। তাদের মতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে সরকার-নির্বাচন কমিশন ও দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার তাগিদ খাত সংশ্লিষ্টদের। এ নিয়ে সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা বলেছেন, সাইবার দুনিয়ায় আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ ফেসবুক ও ইউটিউব। এসব প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে আইনি সহায়তার জন্য চুক্তি করতে হবে। এটা করলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অপপ্রচারকারীর তথ্য সরবরাহ করবে সরকারের কাছে। সেই উদ্যোগটা নেওয়া হয়নি।

ডিবিটেক/এমইউএম/ইএইচ